ফরিদপুরে সরকারি ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৪৩ বছর বয়সী এক বিধবা নারীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ২ এপ্রিল শহরের গোয়ালচামট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত সুজন শেখ শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার মৃত হালিম শেখের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সুজন এলাকার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর পৌরসভার বাসিন্দা। ১০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে এবং অত্যন্ত কষ্টে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে জীবনযাপন করছেন। অভাবের সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী সুজন শেখ তাকে সরকারি সহায়তার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। গত ২ এপ্রিল সকালে কার্ড করার নাম করে সুজন তাকে রিকশায় করে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার কথা বলে বের করেন। কিন্তু সুকৌশলে তাকে শহরের গোয়ালচামট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের সামনে নিয়ে যান। সুজন দাবি করেন কার্ড করার অফিসটি হোটেলের ভেতরে। সরল বিশ্বাসে ভেতরে ঢোকার পর সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর ওই নারী শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি (ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস) সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসার পর ৬ এপ্রিল বাড়ি ফিরে তিনি আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং পরদিন থানায় মামলা করেন।
সরেজমিনে ভুক্তভোগীর জরাজীর্ণ ঘরে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। কান্নায় ভেঙে পড়ে ওই নারী বলেন, “আমি তো অফিস চিনি না। বিশ্বাস করেছিলাম ওর সাথে গেলে একটা সরকারি কার্ড পাবো, ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে পারবো। কিন্তু ও আমার ইজ্জত কেড়ে নিয়ে জীবনটা শেষ করে দিল। আমি ওর ফাঁসি চাই।”
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিযুক্ত সুজন শেখকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
