নিজস্ব প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় একটি কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের কাহালগাঁও বাজারে এই সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কাহালগাঁও বাজারের পাশে ‘সিপি বাংলাদেশ’ নামে একটি কোম্পানির লেয়ার মুরগির খামার রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই খামারের বিষ্ঠা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেয় বিএনপি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এই ব্যবসার ভাগ দাবি করে আসছিল জামায়াত। এই দ্বন্দ্বের জেরে মঙ্গলবার রাতে দুই শতাধিক জামায়াত নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সিপি খামারে ঢুকে ম্যানেজারের সাথে অসদাচরণ করে জোরপূর্বক দুই ট্রাক বিষ্ঠা নিয়ে যায়।
এরপর তারা কাহালগাঁও বাজারে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
সংঘর্ষের সময় বাজারের ১১টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং ৫টি মোটরসাইকেল লুটের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকের ম্যানেজার মো. শামীম হক অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ব্যাংকের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া শ্রমিক দল নেতা কাইয়ুম তালুকদারের ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারসহ বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
সিপি বাংলাদেশ কোম্পানির ম্যানেজার সাদিকুর রহমান জানান, প্রতি দেড় মাসে প্রায় ৮ লাখ টাকার বিষ্ঠা উৎপাদন হয়। এই বিষ্ঠা নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী ও ডাকাতি কার্যক্রম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, জামায়াত যে একটি সন্ত্রাসী দল, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তা আবারও প্রমাণিত হলো।
অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। জামায়াত দাবি করেছে, তারা কোনো ভাঙচুর বা লুটপাটে জড়িত নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে জামায়াত নেতা মো. আ. মজিদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মুরগির বিষ্ঠার মতো তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দলের এমন সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ক্ষমতার পালাবদলে বিষ্ঠার দখলও এখন রাজনীতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
