বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আজ ইতিহাসের এক কলঙ্কিত ও অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা গত দুই দশকের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, মাত্র ২০ দিনে সন্দেহজনক হামে ৯৮টি এবং নিশ্চিত হামে ১৬টি শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। যে দেশ একসময় ইপিআই (EPI) কর্মসূচিতে বিশ্বের রোল মডেল ছিল, আজ সেই দেশের টিকাদান কর্মসূচি এক অদক্ষ ও অবৈধ প্রশাসনের কবলে পড়ে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
২০১৭ সালে সীতাকুণ্ডে ১০ ত্রিপুরা শিশুর মৃত্যুতে গোটা দেশ স্তব্ধ হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে প্রতিদিন গড়ে চারটি করে শিশুর লাশ পড়ছে, অথচ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা ব্যস্ত বিদেশের মঞ্চে নিজেদের জাহির করতে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামে মৃত্যুর হার যেখানে ১০ লাখে ১ শতাংশ ছিল, আজ তা লাফিয়ে ১৬.৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, দেশে হামের টিকা শুরুর পর এত বিপুল পরিমাণ শিশুমৃত্যু আগে কখনো দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক নিজেই স্বীকার করেছেন, এক বছরে এত রোগীর মৃত্যু এর আগে আর দেখা যায়নি।
২০২৪ সালের সেই বিতর্কিত জুলাই দাঙ্গার পর ক্ষমতা দখলকারী ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং তাদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা স্বাস্থ্য সিন্ডিকেটই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। অধ্যাপক মাহমুদুর রহমানের মতে, ২০২৫ সালে হামের টিকা পর্যাপ্ত দেওয়া হয়নি, যার ফলে দেশ হাম দূরীকরণের লক্ষ্যমাত্রা থেকে কয়েক দশক পিছিয়ে গেছে।
একদিকে ৪ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালের বারান্দায় কাতরাচ্ছে, অন্যদিকে সুদখোর অর্থনীতির দর্শন নিয়ে ব্যস্ত সরকার এই নীরব গণহত্যার দায় এড়িয়ে নির্বিকার বসে আছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার যখন প্রতিটি শিশুর টিকাদানকে রাষ্ট্রীয় কর্তব্য মনে করত, আজকের অবৈধ সরকার তখন জনগণের জীবনরক্ষার চেয়ে গদি রক্ষায় বেশি মরিয়া।
জঙ্গিবাদ ও বিদেশি শক্তির মদতে পুষ্ট এই জোটের হাতে দেশের প্রশাসনিক শক্তি চলে যাওয়ায় স্বাস্থ্য অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের মুনাফার অঙ্ক কষতে সিদ্ধহস্ত ইউনূস আজ শিশুদের লাশের মিছিলের সামনে বাকরুদ্ধ। এটি কেবল স্বাস্থ্যখাতের ব্যর্থতা নয়, বরং এক নব্য ঔপনিবেশিক শক্তির হাতে সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’।
বাংলার মানুষ আজ মর্মে মর্মে অনুভব করছে রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও মানবিকতার অভাব। একটি দক্ষ ও অভিভাবকসুলভ সরকার থাকলে আজ এই শিশুদের অকালে ঝরে পড়তে হতো না।
ইতিহাসের পাতায় এই রক্তাক্ত অধ্যায় দেশীয় দালাল ও তাদের আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষকদের নিষ্ঠুরতার প্রমাণ হিসেবে টিকে থাকবে। বাংলার মানুষ বিশ্বাস করে, যেদিন দেশের প্রকৃত নেতৃত্ব ফিরে আসবে, সেদিন এই প্রতিটি শিশু হত্যার হিসাব কঠিন হাতে নেওয়া হবে।
