প্রফেসর ইউনুস দেশের যতগুলা সেক্টর ধ্বংস করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হল স্বাস্থ্য সেক্টর। একজন ভাবলেশহীন নির্বিকার অপদার্থকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বানানো হয়েছিল যার এই বিষয়ে কোন ধারনাই ছিলনা। তার সহকারী একজন ছিলেন তিনি কি করেছেন আমরা জানিনা।
এই সময়ে বহু জীবন রক্ষাকারী জরুরী ঔষধ কেনা হয়নি, ভ্যাক্সিন কেনা হয়নি, হাম প্রতিরোধের ক্যাম্পেইন বন্ধ ছিল। ২০১৬ এবং ২০২০ এ ক্যাম্পেইন হয়েছে, ২০২৫ এর নির্ধারিত সময়ে তা হয়নি। হামের টিকা সাপ্লাই দিত ইউনিসেফ, তারা যোগাযোগের পর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় টিকা নেয়নি। সাপে কাটার ঔষধ, র্যাবিজ ভ্যাক্সিন এগুলা ছিল চরম অপর্যাপ্ত। সামনে সাপের কামড়, জলাতংকে মৃত্যু হয়তো বাড়বে। ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন হয়নি, কৃমিনাশক খাওয়ানোর ক্যাম্পেইন ও হয়নি। এর প্রভাব দামনেই পাওয়া যাবে।
অথচ বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো এশিয়াতে অনুকরনীয় ছিল। ইপিআই ছিল সফলতম প্রোগ্রাম যাতে হাম ও (Measles Rubella- MR)অন্তরভুক্ত ছিল।
এখন উপজেলা হাসপাতালে গজ ব্যান্ডেজ নাই, ওয়ার্ডে বিপি মেশিন ওজন মেশিন নাই, অপারেশন থিয়েটারে অজ্ঞানের অনেক আইটেম নাই। অথচ আলাপ চলে আইসিইউ আর ভেন্টিলেটর নিয়ে।
শুনেছি রামেকে ৫টা ভেন্টিলেটর দিচ্ছে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস! কেন তারা দিবে? সরকার কেন দিতে পারলোনা?
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কিনতে নাকি ৩ মাস লাগবে!
কেন ৩ মাস লাগবে সে জবাবদিহিতা মন্ত্রী কি আমলাদের থেকে নিয়েছেন?
যেখানে সময়মত জানায়নি বিধায় পরিচালককে ফাসি দিয়ে দিচ্ছেন সেখানে ৩ মাস কেন লাগবে সেই কালক্ষেপণ এর জন্য মন্ত্রি তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নিবেন কিনা।
তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাজ করতে চান এটা বুঝা যায়। প্রয়োজন সঠিক তথ্য, বাজেট, দূর্নীতি দূরীকরণ। স্বাস্থ্য মানে শুধু ডাক্তার এই ধারণা থেকে বের হতে হবে।
বছর বছর স্বাস্থ্যখাতে বাজেট কমে। ২০২৫ সালেও অনেক কমেছে। এবার আপনি বাজেট বাড়ান। দেশের বাজেটের মাত্র ৩% দিয়ে পৃথিবীর কোন দেশের স্বাস্থ্য সেক্টর চলেনা। এটা ৮-১০% হওয়া উচিত।
সমস্যা নাই, সব দায় ডাক্তারকে দিয়ে দিলেই হবে। তারা বলির পাঁঠা হবার জন্য সর্বদা প্রস্তুত।
পাদটীকা :
আমার দাবি হল সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আর তার সাথে দায়িত্বপালনরতদের ছবি সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে টাংগয়ে রাখা, যাতে সবাই স্বাস্থ্য সেক্টর ধ্বংসের কুশীলবদের স্মরণ করতে পারে।
