নিজস্ব প্রতিনিধি : ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকালকে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য ‘অন্ধকারের যুগ’ ও ‘স্বেচ্ছাচারিতার সময়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতারা। তাঁদের মতে, এই সময়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা, উগ্রবাদের উত্থান এবং উপদেষ্টাদের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল দেশের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড। ।
নাট্যকার ও নির্দেশক মাসুম রেজা এই সময়কালকে ‘স্বেচ্ছাচারিতার ১৮ মাস’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “নিজেদের পছন্দমতো দলকে হল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, আর ভিন্নমতের দলগুলোর প্রদর্শনী মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ এবং তৎকালীন উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী থিয়েটার অঙ্গনের মব ও বিশৃঙ্খলা রোধে ব্যর্থ হয়েছেন। ফারুকী বাউল উৎসব নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও থিয়েটার নিয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা ছিল না।” ।
কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি এই সময়টাকে ‘অন্ধকারের যুগ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “কিছু হলেই আগে বিনোদনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতো খড়্গ। মবের ভয় দেখিয়ে লাইভ কনসার্ট বাতিল করা হতো, যা আমাদের জীবিকায় সরাসরি আঘাত হেনেছে। একদল মানুষ হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ও ভারতবিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে একদল নিজেদের কার্য হাসিল করেছে।” ।
অভিনেতা আজাদ আবুল কালামের মতে, ইউনূস সরকার মানুষের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেনি। তিনি বলেন, “পদে পদে অনিশ্চয়তায় ভুগেছি। শিল্পকলা একাডেমিকে আর্মি ক্যাম্পে পরিণত করা হয়েছিল, যেখানে সাধারণ মানুষের আসার পরিবেশ ছিল না। মনে হতো অন্তর্বর্তী সরকারের আড়ালে অন্য এক উগ্রবাদী শক্তি দেশ চালাচ্ছে, যাদের উপদেষ্টারা উল্টো উসকে দিতেন। বিকেল পর্যন্ত জানি নাটক হবে, অথচ হঠাৎ উড়োচিঠির অজুহাতে মঞ্চায়ন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।” ।
কণ্ঠশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান প্রশাসনিক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র বা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ‘রাজাকারের সমর্থক’ বনাম ‘স্বৈরাচারের দোসর’—এই বিভাজন ব্যবহার করে নাটক বন্ধ করা হয়েছে।” তবে তিনি শিল্পীদের একটি অংশের লোভী মানসিকতা ও পুরস্কারের প্রত্যাশা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ।
বর্তমানে পরিস্থিতি উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে এবং নাট্যদলগুলো হল বরাদ্দ পাচ্ছে বলে শিল্পীরা স্বস্তি প্রকাশ করলেও, তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে আর কখনো বিনোদন ও কৃষ্টি-কালচারের ওপর এমন ‘কালো অধ্যায়’ ফিরে আসবে না।
