আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত এবং দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। গত ২৯ ডিসেম্বর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে পাঠানো এক বিশেষ চিঠিতে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। চিঠিতে দলটির নিবন্ধন বাতিল, গণগ্রেপ্তার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ব সংস্থাটি।
জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি বেন সল, ম্যাথু জিলেট এবং মার্গারেট স্যাটারথওয়েট স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে বলা হয়েছে, একটি রাজনৈতিক দলকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা এবং তার প্রচার-প্রকাশনা স্তব্ধ করে দেওয়া নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) পরিপন্থী। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির অপরাধের জন্য পুরো একটি দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখা বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং ভোটারদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে।
চিঠিতে শেখ হাসিনার ভাষণ প্রচার বন্ধ এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিষয়টিকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢালাও এই নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক বিতর্ককে স্তব্ধ করার ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টের পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িতদের ‘ঢালাও দায়মুক্তি’ দেওয়ার খবর নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে। বিশেষ করে পছন্দের আইনজীবী নিয়োগে বাধা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সুষ্ঠু বিচারের মানদণ্ড লঙ্ঘিত হলে যেকোনো দণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ‘স্বেচ্ছাচারী’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। জাতিসংঘ এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ১০টি সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং এসব পদক্ষেপ পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
