নিজস্ব প্রতিনিধি : ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা সংগঠন ‘বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’র তোপখানা রোডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি এক পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়। সন্ধ্যা ৭টা ৩৯ মিনিটে শুরু হওয়া এই হামলায় ৫৭ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাস, আন্দোলন-সংগ্রামের নথি এবং অমূল্য সাংস্কৃতিক আর্কাইভ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
কালের কণ্ঠ সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একদল যুবক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভবনে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুন দেওয়ার আগে কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। আগুনে পুড়ে গেছে কয়েক হাজার বই, নাটকের ১০টি পূর্ণাঙ্গ সেট, সাংগঠনিক রেজল্যুশন এবং আন্দোলনের বিরল সব দলিল। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে উদীচীর সম্পদ ও ইতিহাস ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
নাট্যজন মামুনুর রশীদ এই হামলাকে বর্বরোচিত আখ্যা দিয়ে বলেন, “এগুলো শুধু স্থাপনার ওপর নয়, বরং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর পরিকল্পিত আঘাত।” প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল কবির দাবি করেন, ছায়ানট ও উদীচীতে হামলার ঘোষণা আগেই দেওয়া হয়েছিল। সরকারের কাছে তথ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা সরকারের পরোক্ষ প্রশ্রয়েরই ইঙ্গিত দেয়।
মানবাধিকারকর্মী সারা হোসেন এই ঘটনাকে ১৯৭১ সালের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, দেশের মেধা ও মননশীলতাকে স্তব্ধ করতেই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত উদীচী কেবল একটি সংগঠন নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের কণ্ঠস্বর ছিল; যার কেন্দ্রীয় আর্কাইভ ধ্বংস করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
