নিজস্ব প্রতিনিধি
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামক একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা খর্ব ও প্রেসক্লাব দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে প্রকাশ্যে প্রেসক্লাবের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এই ক্ষমতার মহড়া দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সাংবাদিকেরা তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করলেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনে আহত ৩২ জন ব্যক্তি নিয়ে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই যোদ্ধা’ নামের একটি সংগঠন গড়ে তোলা হয়। এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ দিন ধরে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘উপজেলা প্রেসক্লাব, গোদাগাড়ী’ ভবনটি নিজেদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশালিন দলবল নিয়ে প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেন।
প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি ও ‘আমার দেশ’ পত্রিকার প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানান, সাংবাদিকদের তিলে তিলে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, যাকে নিয়ে আপত্তি ছিল, তাকে বাদ দিয়েই নতুন কমিটি করা হয়েছে। এখানে নিয়মিত সাংবাদিকতা চর্চা হয়। অথচ আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে এটি দখলের চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
অন্যদিকে, তালা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ‘জুলাই যোদ্ধা’র সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশালিন দাবি করেন, সেখানে আওয়ামী লীগের ‘দোসররা’ সংগঠিত হচ্ছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি। বরং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দেওয়ার পরপরই আইন হাতে তুলে নিয়ে তালা দেওয়ার ঘটনাটিকে সাধারণ মানুষ ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ হিসেবেই দেখছেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ‘জুলাই যোদ্ধা’ সংগঠনের সভাপতি সাবিয়ার রহমান মিল্টন নিজেই গোদাগাড়ী পৌর যুবদলের একজন নেতা। যদিও তিনি তালা দেওয়ার বিষয়টি জানতেন না বলে দাবি করেছেন। তবে আন্দোলনের আবহে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি অরাজনৈতিক পেশাদার সংগঠনের কার্যালয় দখল করার এই প্রবণতাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ কায়দায় জবরদখল বলে অভিহিত করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রেসক্লাবে তালা দেওয়ার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, তারা বিষয়টি ‘হ্যান্ডেল’ করতে চাচ্ছেন না এবং দায়ভার ইউএনও-র ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। এদিকে ইউএনও নাজমুস সাদাত রত্নও বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো শক্ত অবস্থানে যাননি। যা সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে সাংবাদিকেরা তালা কেটে ভেতরে ঢুকলেও ভবনটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে পুঁজি করে একদল সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী এখন দখলদারিত্বে মেতে উঠেছে, যা মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি।
