নিজস্ব প্রতিনিধি
পেশায় সাংবাদিক, কিন্তু নেশায় যেন মজুতদার! কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে ‘কালের কণ্ঠ’ মাল্টিমিডিয়ার উত্তরবঙ্গ সমন্বয়ক মোঃ সোহেল রানা স্বপ্নের ভাড়াকৃত গোডাউন থেকে ৭১ বস্তা সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, নিজ প্রতিষ্ঠানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মীর এমন ন্যাক্কারজনক অপকর্মের পরও এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি পত্রিকা কর্তৃপক্ষ।
গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজিবপুরের শিবেরডাঙ্গী বাজার এলাকায় অভিযান চালায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা আবুল হোসেনের মালিকানাধীন একটি গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ৭১ বস্তা সরকারি চালের হদিস পায়। জানা যায়, মেসার্স ফাতেমা ট্রেডার্সের আড়ালে এই গোডাউনটি ভাড়া নিয়েছিলেন সোহেল রানা স্বপ্ন, যিনি এলাকায় প্রভাবশালী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসান খানের উপস্থিতিতে সোহেল রানা স্বপ্নকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত চাল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল কবির এবং রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. এফ. এম. শামীম।
একজন সাংবাদিকের গোডাউন থেকে সরকারি চাল উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, রক্ষকই এখন ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে।
অভিযুক্ত সোহেল রানা স্বপ্ন দাবি করেছেন, তার মায়ের নামে ডিলারশিপ রয়েছে এবং সুবিধাভোগীরা চাল বিক্রি করে যাওয়ায় এই মজুত গড়ে উঠেছে। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি চাল গুদামজাত করার নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা সত্ত্বেও কেন ব্যক্তিগত গোডাউনে এত বিপুল পরিমাণ চাল রাখা হলো? কেনই বা ঈদ উপলক্ষে বিতরণের নামে চাল সরিয়ে রাখা হয়েছিল? এসব প্রশ্ন তার ‘চুরির’ উদ্দেশ্যকেই স্পষ্ট করে তোলে।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ‘কালের কণ্ঠ’ বরাবরই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন থাকার দাবি করে। কিন্তু তাদের উত্তরবঙ্গ সমন্বয়কের বিরুদ্ধে চাল চুরির প্রমাণ ও প্রশাসনের জরিমানা করার পরও পত্রিকাটির পক্ষ থেকে কোনো বহিষ্কারাদেশ বা নিন্দা প্রস্তাব না আসায় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, পত্রিকাটি কি তার কর্মীর এই অপকর্মকে আড়াল করতে চাইছে? একজন ‘চোর’ সাংবাদিকের দায়ভার কি তাহলে পুরো প্রতিষ্ঠানটিই নিচ্ছে? সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড কি এখন সরকারি চাল চুরির নিরাপদ ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে?
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কোনো সমাধান নয়। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে যারা সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। একই সাথে যে প্রতিষ্ঠান তাদের এই ক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ করে দিয়েছে, তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।
