নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী নেতা মাসুম মোস্তফার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে মহান স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ। বৃহস্পতিবার সকালে পূর্বধলা জগত মনি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত অনুষ্ঠানে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী জামায়াত এমপির সাথে একই মঞ্চে বসতে আপত্তি জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই কঠোর অবস্থান নেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এমপি মাসুম মোস্তফার নাম ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে এমপির উপস্থিতির খবর পেয়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা মাঠে প্রবেশ না করে বাইরে অবস্থান নেন এবং প্রতীকী বর্জন কর্মসূচি পালন করেন। পূর্বধলা উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. নিজাম উদ্দিন জানান, পূর্ব সিদ্ধান্ত ও নীতিগত অবস্থান থেকেই তাঁরা এই অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিজুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে আগেই লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম। একাত্তরের পরাজিত শক্তির কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতিতে আমরা স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নিতে পারি না। তাই তিনি মাঠে থাকা অবস্থায় আমরা যাইনি।” তবে এমপি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পর প্রশাসনের বিশেষ অনুরোধে মুক্তিযোদ্ধারা পরবর্তী আলোচনা সভায় অংশ নেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গ্রহণ করেন।
এই বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনিম জাহান জানান, সব মুক্তিযোদ্ধা অনুষ্ঠান বর্জন করেননি। তবে কিছু মুক্তিযোদ্ধা শুরুতে অংশ নেননি বলে স্বীকার করেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে মূল কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এমপির সরাসরি উপস্থিতি এড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন এই কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা জানান, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশের আপত্তির কথা তিনি জানতে পেরেছিলেন। তাই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং জাতীয় দিবসের মর্যাদা রক্ষায় তিনি স্বেচ্ছায় সংশ্লিষ্ট মূল কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেননি। স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় উৎসবে জনপ্রতিনিধি বনাম মুক্তিযোদ্ধাদের এই শীতল লড়াই এখন নেত্রকোনার রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
