নিজস্ব প্রতিনিধি
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের অভাবে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র জনমত তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, তার বক্তব্যে সরকারের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর শাহবাগে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাসপাতালের পরিচালক ভেন্টিলেটর সংকটের তথ্য গোপন করেছেন, যা ‘অমার্জনীয় অপরাধ’। এমনকি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের দায়িত্বহীনতার জন্য তাকে “ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত”।
তবে মন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখছেন। কারণ, একটি সরকারি হাসপাতালের দীর্ঘদিনের সংকট সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের অজ্ঞতা নিজেই বড় ধরনের ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। স্বাস্থ্যখাত বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একজন পরিচালকের দায় নয়; বরং পুরো ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও নজরদারির অভাবের ফল।
মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, সরকারি প্রক্রিয়ায় দ্রুত ভেন্টিলেটর সংগ্রহ সম্ভব নয়। ফলে তিনি ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে বেসরকারি উদ্যোগে ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করছেন। বিষয়টি সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধার অভাব এবং তা সময়মতো শনাক্ত না হওয়া—এটি পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার বড় ব্যর্থতা। নিয়মিত তদারকি ও ডেটা মনিটরিং থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা নয়।
এদিকে চিকিৎসা খাতের নৈতিকতা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী চিকিৎসকদের নানা অনিয়মের উদাহরণ তুলে ধরেন। কিন্তু সমালোচকদের মতে, কেবল চিকিৎসকদের দায়ী না করে অবকাঠামো, জনবল সংকট ও নীতিগত দুর্বলতার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
রাজশাহী মেডিকেলের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল—স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহির অভাব কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, শুধু বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ নয়—এই ব্যর্থতার দায় কি সরকার এড়াতে পারবে?
