নিজস্ব প্রতিনিধি
পটুয়াখালীতে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে অস্বীকার করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী জেলা জমিয়াতে উলামার সভাপতি। তার এই মন্তব্যের জেরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিরোধের মুখে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই নেতা বক্তব্য অসমাপ্ত রেখে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়াতে উলামার ওই জেলা সভাপতি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি দাবি করেন, “মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো অবদান নেই।” এই মন্তব্যটি করার সাথে সাথেই প্যান্ডেলে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার পক্ষের কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা ওই নেতার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং তাকে ‘রাজাকারের বংশধর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বয়কট ও অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার ডাক দেন।
বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যে নেতার ডাকে ও যে মহান নেতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তাকে অপমান করার অধিকার কারও নেই। পরিস্থিতি প্রতিকূল বুঝতে পেরে ওই নেতা আর বক্তব্য চালিয়ে যেতে পারেননি।
এই প্রতিবাদে সামনের সারিতে ছিলেন পটুয়াখালীর ‘কাজী বাহিনী’র কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধারা। প্রতিবাদী এই দলে উপস্থিত ছিলেন,
সর্দার আব্দুর রশিদ যিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরমুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারা বেগম।
পটুয়াখালীর জনযোদ্ধাদের কাছে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কমান্ডার আব্দুল মতলেব কাজী ও তার অনুসারী এই ‘কাজী বাহিনী’ ১৯৭১ সালে পুরো ৯ মাস পটুয়াখালী অঞ্চলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছে। ন্যাপ, সিপিবি, ছাত্র ইউনিয়ন, আওয়ামী লীগ, পুলিশ ও ইপিআর থেকে আসা যোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত এই বাহিনী স্থানীয়ভাবে পাক দস্যু ও তাদের দোসর রাজাকারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পটুয়াখালীর অনেক অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধা চরম অবহেলা ও দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন কাটিয়েছেন। তাদের ত্যাগ ও লড়াইয়ের ইতিহাস উপেক্ষা করে যখন দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে জাতির পিতার অবমাননা করা হয়, তখন তা তাদের জন্য চরম বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শেষ বয়সে এসেও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই তীব্র প্রতিবাদ প্রমাণ করে যে, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা তাদের হৃদয়ে কতটা গভীরভাবে গেঁথে আছে।
