নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশব্যাপী তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, গ্যাস ও তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং জনজীবনে নাভিশ্বাস ওঠার প্রতিবাদে নেত্রকোনায় এক অভিনব ও সাহসী প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করেছে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার রাতে জেলা সদরের কাইলাটি সড়কে হারিকেন হাতে নিয়ে তাদের এই ‘ঝটিকা মিছিল’ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যুবলীগের এই সময়োপযোগী প্রতিবাদকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, যখন সরকারের অব্যবস্থাপনায় পুরো দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত, তখন এই হারিকেন মিছিল মূলত একটি প্রতীকী প্রতিবাদ যা বর্তমান প্রশাসনের চরম ব্যর্থতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ২০-২৫ জন নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মী রাতের আঁধারে হারিকেন ও মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে রাজপথে নেমে এসেছেন। অংশগ্রহণকারীদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজপথ। তাদের কণ্ঠে ছিল জনদুর্ভোগের করুণ চিত্র: “তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ নাই, তারেক জিয়ার দরকার নাই” এবং “শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হারিকেন হাতে নিয়ে মিছিলে নামা বর্তমান সরকারের জ্বালানি নীতির দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “যেভাবে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে এবং তেলের দাম বাড়ছে, তাতে হারিকেনই এখন আমাদের একমাত্র ভরসা। যুবলীগ এই বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছে।”
এই ঝটিকা মিছিলের ভিডিও যুবলীগের ভেরিফায়েড পেজে শেয়ার হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষ একে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। নেটিজেনরা বলছেন, সরকার যখন উন্নয়নের বুলি আওড়াচ্ছে, তখন মাঠ পর্যায়ে মানুষের হাহাকার আর সহ্য করা যাচ্ছে না। যুবলীগের এই মিছিল প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা বলার জন্য রাজপথ এখনো জাগ্রত।
স্থানীয় এক কৃষক জানান, “হঠাৎ করে হারিকেন হাতে মিছিল দেখে আমরা অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু তাদের স্লোগান শুনে মনে হয়েছে হ্যাঁ, আমাদের মনের কথাই তারা বলছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।”
তীব্র লোডশেডিং আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা যখন তলানিতে, তখন এই ধরণের প্রতিবাদ প্রশাসনকে বেশ চাপে ফেলেছে। নেত্রকোনা পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—শান্তিপূর্ণভাবে হারিকেন হাতে প্রতিবাদ জানানো কি অপরাধ? কেন জনগণের মৌলিক সমস্যার কথা বললেই পুলিশি তদন্তের মুখে পড়তে হয়?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেত্রকোনার এই হারিকেন মিছিল দেশব্যাপী সরকারবিরোধী ক্ষোভের একটি স্ফুলিঙ্গ মাত্র। জ্বালানি সংকটের সমাধান না করে দমন-পীড়ন চালিয়ে মানুষের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিতে বিপরীত হতে পারে।
