৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের মাটিতে কি তবে ফিরে আসছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি? বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের কণ্ঠে এখন সেই আশঙ্কাই প্রবল।
তাঁর সাফ কথা, গত দেড় বছরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ছায়াতলে সুপরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। যে ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’-এর কথা বলা হচ্ছে, তার আড়ালে আসলে একাত্তরকে স্রেফ একটি ‘গণ্ডগোল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলেছে বলে দাবি তাঁর।
ফজলুর রহমানের অভিযোগ, জামায়াত ও তাদের অনুসারীরা এই আন্দোলনকে কুক্ষিগত করে ১৯৪৭ ও ২০২৪-কে ‘প্রকৃত স্বাধীনতা’ বলে প্রচার করছে, যা সরাসরি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার নামান্তর।
তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান, “যে সাপের দল ৫৪ বছর ধরে নিভৃতে বড় হয়েছে, তারা আজ মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা পরানোর দুঃসাহস দেখাচ্ছে।” ড. ইউনূসকে ‘আন্তর্জাতিক মানের চক্রান্তকারী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর আমলেই ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চের মতো জাতীয় দিবসগুলোকে ম্লান করে দেওয়া হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙার আস্কারা দেওয়া হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক উত্তরণের পথ হিসেবে ফজলুর রহমানের বাজি এখন বিএনপি। তিনি মনে করেন, ১৬ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ের পর ক্ষমতার মসনদে বসা বিএনপিকে যদি টিকে থাকতে হয়, তবে জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাইরে যাওয়ার কোনো পথ নেই।
তাঁর বিশ্বাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার পক্ষেই অবিচল থাকবে। জীবনের শেষলগ্নে এসে আবারও কোরআন শরিফে হাত রেখে শপথ করে এই প্রবীণ যোদ্ধা ঘোষণা করেছেন “মুক্তিযুদ্ধের কাছে আলবদরের মধ্যযুগীয় বর্বররা পরাজিত হবেই হবে।”
লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য
