নিজস্ব প্রতিনিধি
দেশের মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ‘ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়’-এর বিদায়ী প্রশাসনের বিরুদ্ধে উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রশাসনিক কার্যালয়ের পরিবর্তে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলমের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়টি কার্যত একটি ‘জামায়াতিকরণ’ প্রকল্পে পরিণত হয়েছিল। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে মাদরাসার গভর্নিং বডি গঠনের ক্ষেত্রে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের ইশারাই ছিল চূড়ান্ত। এমনকি গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের ফাইলে ভিসির সিলমোহর দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা জামায়াতের আমিরের ‘সবুজ সংকেত’ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, যারা দলীয় পছন্দের বাইরের প্রার্থীকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাতেন, তাদের সরাসরি মাদরাসার স্বীকৃতি বাতিলের হুমকি দেওয়া হতো। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক মাদরাসা এক প্রকার ‘দলীয় জিম্মিদশা’য় পড়ে গিয়েছিল।
শামসুল উলামা আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহঃ)-এর আন্দোলনের ফসল এই বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ অভিযোগ উঠেছে, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় যারা চরম বিরোধিতা করেছিল, গত কয়েক মাস তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী আসনে বসে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের অর্জিত ভাবমূর্তি চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন গত ১৭ মার্চ ২০২৬। এই প্রেক্ষাপটে মাদরাসা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও সচেতন মহল নতুন প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো, গত কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া সকল বিতর্কিত নিয়োগ ও গভর্নিং বডি গঠনের ফাইল পুনরায় যাচাই করা।
বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিমুক্ত করে নিজস্ব আইন ও বিধি মোতাবেক পরিচালনা নিশ্চিত করা।
যারা বিশ্ববিদ্যালয়কে দলীয় আখড়ায় পরিণত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
প্রতিটি কর্মকর্তার ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
মাদরাসা শিক্ষা পরিবারের সংশ্লিষ্টরা এখন নতুন উপাচার্যের দিকে তাকিয়ে আছেন, যেন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বায়ত্তশাসন ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।
