২০২৪ সালের সেই হাড়কাঁপানো ডিসেম্বরের দুপুর। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কুলিয়ারা বাজারে সাধারণ এক কাজে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম কানু যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়।
‘পাকিস্তানি বর্বরতা’র বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করা সেই যোদ্ধাকেই নিজ দেশের মাটিতে গলায় জুতার মালা পরে লাঞ্ছিত হতে হয়েছিল। আজ সেই ঘটনার স্মৃতি ফিরে আসতেই আবারও প্রশ্ন উঠছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সুরক্ষা ঠিক কোথায়?
তদন্তে জানা গিয়েছিল, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে বীর মুক্তিযোদ্ধা কানুকে স্থানীয় একটি স্কুলের মাঠে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় একদল যুবক। সেখানে তাঁকে লাঠিপেটা করে মাটিতে ফেলে রাখা হয় এবং নজিরবিহীনভাবে জুতার মালা পরিয়ে সেই দৃশ্য ভিডিও করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা কানুর বয়ান অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন বেলাল, নয়ন, ফরহাদ ও অহিদুরের মতো স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা, যাঁদের সঙ্গে জামায়াত নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ তাহেরের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠেছিল। এলাকা ছাড়ার শর্তে সে যাত্রায় মুক্তি পেলেও কানুর সেই প্রশ্ন আজও বাতাসে ভাসছে “আমি কোন দেশে আছি?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের দায়িত্ব হওয়া উচিত নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির যে প্রচেষ্টা ছিল, তা সর্বজনবিদিত।
তবে বিএনপি যেখানে একজন সেক্টর কমান্ডার ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের আদর্শে চলে, সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সুরক্ষা ও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা নিয়েও বড় প্রত্যাশা থাকে জনমনে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কানুর মতো অনেক বীর আজও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, আর ক্ষমতার পালাবদলে বারবার লাঞ্ছিত হচ্ছে লাল-সবুজ পতাকার মর্যাদা।
