জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পর প্রক্টরিয়াল বডিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
একইসঙ্গে প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন নারী শিক্ষার্থীরা। সকাল পর্যন্ত চলা ওই অবস্থান কর্মসূচি শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসন এখনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি এবং শিক্ষার্থীদের দেওয়া দাবিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ১৩ মে ছয় দফা দাবি তুলে ধরে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময় শেষ হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন তারা। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটির বিভিন্ন তথ্য গোপন করেছে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
প্রেস ব্রিফিং শেষে শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসের পুরোনো তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় অফিসের দেয়াল ও দরজায় বিভিন্ন স্লোগান ও প্রতিবাদী গ্রাফিতি লেখা হয়।
আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হবে এবং আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে— প্রক্টরের পদত্যাগ, অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।
এদিকে আন্দোলনের একপর্যায়ে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের তীব্র বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মধ্যস্থতার চেষ্টা করেন।
পরে উপাচার্য বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে এবং কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে তাদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
