নিজস্ব প্রতিনিধি
রাস্তা রক্ষার কাজে ব্যবহৃত সরকারি সম্পদ প্যালা সাইডিং (ঢালাই স্লাব) আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পিয়াল আলী শেখের বিরুদ্ধে। কোনো নিয়ম-নীতি বা অনুমতি ছাড়াই দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ৩৯ পিস স্লাব সরিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৫ ও ৬ মার্চ নওয়াপাড়া পৌরসভার মহাকাল আমডাঙ্গা সড়কের ‘মৃত হান্নান মোল্যার ঘের’ সংলগ্ন স্থান থেকে রাস্তা সংরক্ষণের এই রড-ঢালাই স্লাবগুলো তোলা হয়। পিয়াল আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মনি মোড়লের তদারকিতে দিনমজুর রবিউল, গফুর, আদম ও মিজানুরকে দিয়ে স্লাবগুলো ট্রলিতে তোলা হয়। এরপর নছিমনযোগে ১৭ পিস এবং ২২ পিস—সর্বমোট ৩৯ পিস স্লাব সরাসরি পিয়াল আলী শেখের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয়রা যখন সরকারি মালামাল সরানোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন সহযোগী মনি মোড়ল দাবি করেন যে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি নিয়েই তারা এগুলো সরাচ্ছেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পিয়াল আলী তড়িঘড়ি করে প্রমাণ গোপনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, স্লাবগুলো নিজের বাড়ির উঠান পাকা করার উদ্দেশ্যে নিলেও পরে ধরা পড়ার ভয়ে সেগুলো অন্য এক ব্যক্তির ড্রেনের ওপর সরিয়ে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পিয়াল আলী শেখ বলেন, “আমি স্লাবগুলো নিজের জন্য নেইনি। জনগণের কল্যাণে ড্রেনের ওপর ঢাকনি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য এনেছি।” তবে তাঁর এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালাউদ্দিন দিপু এ প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন:
“সরকারি সম্পত্তি নেওয়ার জন্য আমি কাউকে কোনো অনুমতি দিইনি। একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং সেটি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠানো হয়েছে।”
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
