নিজস্ব প্রতিনিধি
তিন মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর। শনিবার(১৫ মার্চ) দুপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এমন অনেক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন।
আনিস আলমগীর বলেন, শেখ হাসিনা ইউনুসকে খারাপ বলতেন, তখন আমাদের বিশ্বাস হতো না। কিন্তু এখন দেখছি তিনি (শেখ হাসিনা) ঠিকই ইউনুসকে চিনেছিলেন।
কারাফটকে দাঁড়িয়ে আনিস আলমগীর অভিযোগ করেন, তার ওপর শুধু অন্যায় নয়, রীতিমতো জুলুম করা হয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ছিল এক-এগারো সরকারের একটি বর্ধিত রূপ। কিন্তু এখন ড. ইউনূস যে ‘আইনের জুলুম’ চালু করে দিয়ে গেছেন, তা যদি অব্যাহত থাকে তবে সাধারণ মানুষ তা কোনোভাবেই ভালোভাবে নেবে না।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ধানমন্ডি থেকে আটকের পর তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করা কতটা হাস্যকর, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু গত দেড় বছরে এই একই কায়দায় হাজার হাজার মানুষকে কারাগারে পুরে রাখা হয়েছে।
কারাগারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, ভেতরে কোনো বড় নেতা নয়। বরং একটি নির্দিষ্ট দলের (আওয়ামী লীগ) অসংখ্য সাধারণ ও পদ-পদবিহীন কর্মীকে আটকে রাখা হয়েছে। যেকোনো একটা জেলে গিয়ে দেখবেন, শুধু একটা দলের রাজনৈতিক কর্মীরা জেল খাটছে। এদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসবাদের। রাজনৈতিক বিরোধিতা করলেই কি এখন সবাই সন্ত্রাসী? সন্ত্রাসের সংজ্ঞা কি বদলে গেছে? — প্রশ্ন তোলেন তিনি।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আনিস আলমগীরের এই মুক্তিকে অনেকেই রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তবে উল্লেখ্য যে, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপির আমলেও সাংবাদিক নির্যাতন ও মামলা-হামলার সংস্কৃতি বিদ্যমান ছিল। ফলে বর্তমান কাঠামো না বদলালে পরিস্থিতির প্রকৃত পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে।
আনিস আলমগীর আরও যোগ করেন, তিনি পরিচিত মুখ হওয়ায় মিডিয়া কভারেজ পাচ্ছেন। কিন্তু কাশিমপুরসহ বিভিন্ন কারাগারে এখনো নামহীন হাজারো মানুষ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিনা বিচারে আটকে আছেন। ড. ইউনূসের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মহলে বা জেনেভায় কেন আলোচিত হয়নি, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
