নিজস্ব প্রতিনিধি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এলেও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় এখনো রয়ে গেছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ছাপ। গত কয়েক বছর ধরে সংগ্রহ করা সরকারি খাদ্য মজুদ দিয়েই বর্তমানে বাজারের চাহিদা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সামাল দিতে হচ্ছে প্রশাসনকে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ও স্লোগান সম্বলিত চালের বস্তা বিতরণের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে ওএমএস, ভিজিএফসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য বড় পরিসরে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মজুদ করা হয়েছিল। সেই মজুদের একটি বড় অংশ এখনো সরকারি গুদামে সংরক্ষিত রয়েছে, যা বর্তমানে বিতরণ করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় স্বীকার করেছেন যে, তৎকালীন খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও মজুদের কারণেই বর্তমান সংকটকালে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে।
সম্প্রতি দেশের কয়েকটি এলাকায় বিতরণ করা চালের বস্তায় ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগান দেখা গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বস্তার ওপর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নাম রঙ দিয়ে মুছে ফেলার খবরও পাওয়া গেছে। তবে বস্তাগুলো আগের সরকারের আমলে প্রস্তুত হওয়ায় তা রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান প্রশাসনের জন্য। একটি ঘটনায় দেখা গেছে, চালের বস্তায় শেখ হাসিনার নাম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন স্থানীয় এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তী সরকার খাদ্য সংগ্রহ ও আমদানিতে আশানুরূপ গতি আনতে পারেনি। ফলে নতুন করে পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলার পরিবর্তে আগের সরকারের রেখে যাওয়া মজুদের ওপরই নির্ভরতা বাড়ছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সরকারি গুদামে চাল ও গম দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা হয়। নতুন সংগ্রহের গতি কিছুটা কম থাকায় এবং বাজারে চালের দাম বাড়তে থাকায় পুরোনো মজুদ থেকেই বেশি খাদ্যশস্য ছাড়তে হচ্ছে।”
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খাদ্য মজুদের এই ধারাবাহিকতা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক হলেও নতুন সংগ্রহে স্থবিরতা বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া চালের বস্তার ঘটনাটি মূলত বর্তমান খাদ্য ব্যবস্থাপনার এক প্রতীকী দুর্বলতা প্রকাশ করছে। যদি দ্রুত নতুন করে খাদ্যশস্য আমদানি বা অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ না বাড়ানো হয়, তবে মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
