নিজস্ব প্রতিনিধি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মায়ের হৃদয়বিদারক পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাসরিন আক্তার নামে এক নারী তার সন্তানকে এতিমখানায় রেখে আসার পর ছেলের লেখা একটি চিঠির কথা শেয়ার করেছেন। যেখানে উঠে এসেছে এতিমখানার ভেতরের কষ্টের বাস্তবতা।
নিজের ফেসবুক পোস্টে নাসরিন আক্তার জানান, তিনি এতিমখানায় সন্তানদের দেখতে গেলে তার মেজো ছেলে তাহাসিন আব্দুল্লাহ একটি কাগজ হাতে দেয়। পরে জানা যায়, সেটি ছিল মায়ের উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠি। ছোট্ট ছেলেটির সেই চিঠিতে ছিল তার অভাব-অভিযোগ আর মায়ের প্রতি আকুল আবেদন।
চিঠিতে তাহাসিন লিখেছে, “আম্মা, আমাকে একটা সাবান দিয়ো। তিন দিন আগে সাবান শেষ হয়ে গেছে। একটা সাদা পাঞ্জাবি দিও, আগেরটা ছিঁড়ে গেছে। রাতে সেহেরিতে ভাত দেয় না। ইফতারে বুট-মুড়ি দেয়। আমার জন্য ভালো খাবার এনো। একটা মশারি দিও, ছেঁড়া দিয়ে মশা কামড়ায়।”
শিশুর সরল ভাষায় লেখা এই কয়েকটি বাক্যই যেন এতিমখানার ভেতরের কঠিন বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে। মায়ের কাছে তার ছোট ছোট চাওয়া একটা সাবান, একটি পাঞ্জাবি, একটু ভালো খাবার এবং একটি মশারি। এটা পড়ার পর অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর নাসরিন আক্তার তার মন্তব্যে নিজের জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৮ সালে তার স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব একাই তার ওপর এসে পড়ে। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আর সন্তানদের ঠিকভাবে লালন-পালন করতে পারছিলেন না।
তিনি লেখেন, “অনেকেই জানতে চাইছেন কেন বাচ্চাদের এতিমখানায় দিলাম। ওদের বাবা ২০১৮ সালে মারা যাওয়ার পর আমি ছাড়া ওদের আর কেউ নেই। আমার একটি কিডনি নষ্ট, আরেকটার অবস্থাও ভালো না। তাই কখন মারা যাই সেই চিন্তায় বাধ্য হয়ে বাচ্চাদের এতিমখানায় দিয়ে দিয়েছি।”
পোস্টের পর অনেক মানুষ সহায়তার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি নিজের বিকাশ ও নগদ নম্বর (০১৫৩৭২৭৭০৩৯) এবং সোনালী ব্যাংকের যাত্রাবাড়ী শাখার একটি ব্যাংক হিসাব নম্বর (১৬১০৫০১০১৪০৫৫) শেয়ার করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, তার এই ফোন নম্বর ছাড়া অন্য কোনো নম্বর ব্যবহার করে কেউ যেন প্রতারণা না করে। প্রয়োজনে ভিডিও কলে ছেলের সঙ্গে কথা বলেও বিষয়টি যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
নাসরিন আক্তারের এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই এতিমখানায় শিশুদের জীবনযাত্রা, তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং তদারকির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানাচ্ছেন অনেকেই।
এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, সমাজের প্রান্তিক মানুষদের জীবনের কঠিন বাস্তবতা অনেক সময় আমাদের কল্পনাকেও হার মানায়। বিশেষ করে এতিমখানায় থাকা শিশুদের জীবনমান, নিরাপত্তা ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
