অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সাংবাদিক সুচিস্মিতা তিথি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। সম্প্রতি তার একটি পুরনো ব্যক্তিগত ছবি ভাইরাল হওয়ার পর তাকে নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সুচিস্মিতা তিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ২০২০ সাল থেকে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এ সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পদে তিনি নবম গ্রেডে বেতনভুক্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভাইরাল হওয়া ছবিতে সুচিস্মিতা তিথিকে তার বন্ধুদের সঙ্গে একটি ঘরোয়া আড্ডায় দেখা যাচ্ছে, যেখানে টেবিলের ওপর মদ ও ধূমপানের সামগ্রী রাখা ছিল। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর রক্ষণশীল নেটিজেনদের একটি অংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল পদে থাকা ব্যক্তির এমন জীবনযাত্রা গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, সরকারি পদের মর্যাদা রক্ষায় ব্যক্তিগত আচরণেও সংযম থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে, এই বিতর্কের বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন অনেক মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ ব্যবহারকারী। তারা বিষয়টিকে ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ’ ও ‘সাইবার বুলিং’ হিসেবে দেখছেন। তাদের যুক্তি হলো, ছবিটি তিনি সরকারি দায়িত্বে আসার অনেক আগের এবং প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত জীবনে নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দের অধিকার রয়েছে। একজনের পেশাগত যোগ্যতাকে তার ব্যক্তিগত আড্ডার ছবি দিয়ে বিচার করা অনুচিত বলেও তারা মন্তব্য করছেন।
সুচিস্মিতা তিথি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধান উপদেষ্টার বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বা অন্যান্য উপদেষ্টাদের ব্রিফিংয়েও তাকে সক্রিয় দেখা গেছে। সরকারি সূত্রে জানা যায়, তার সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা বিবেচনা করেই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই ভাইরাল ছবি বিতর্ক তার পেশাগত ভাবমূর্তিতে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত এই বিতর্কিত ছবি বা সমালোচনার বিষয়ে সুচিস্মিতা তিথি কিংবা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই বিতর্ক বর্তমানে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং জনগুরুত্বপূর্ণ পদের নৈতিক দায়বদ্ধতা—এই দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
