নিজস্ব প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় সস্তায় মাংস, পোলট্রি ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য আমদানির প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, শেষ দিন পর্যন্ত এই চুক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেও সরকারের ভেতরে থেকে তা ঠেকাতে পারেননি।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত ঢাকা স্ট্রিম কার্যালয়ে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট : ক্যাবের ১৩ দফা ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
চুক্তির গোপনীয়তা নীতির সমালোচনা করে ফরিদা আখতার বলেন, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এই চুক্তি হয়নি; বরং এর প্রক্রিয়া অনেক আগে থেকেই চলছিল। একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের চুক্তি হবে, অথচ তা গোপন রাখা হবে—এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি সরকারের ভেতরেও সবাই সব তথ্য জানতে পারবে না—এমন ব্যবস্থাও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
তিনি জানান, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই উদ্যোগ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাংস, পোলট্রির বাচ্চা, ক্যাটফিশ ও নাড়িভুঁড়ি আমদানির বিষয়ে অনুমোদন চেয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তখন সম্ভাব্য জুনোটিক রোগসহ জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিস্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে তারা আপত্তি জানান।
ফরিদা আখতার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত মানের পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে প্রবেশের আগে নিজস্ব পরীক্ষার সুযোগ থাকতে হবে। কিন্তু চুক্তিতে সেই সুযোগ রাখা হয়নি; বরং যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষার ফলই মেনে নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত উৎপাদিত মাংস বাংলাদেশে ডাম্পিং হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এসব পশুকে জেনেটিক্যালি মডিফাইড সয়াবিন ও কর্ন খাওয়ানো হয় এবং অতিরিক্ত উৎপাদন সামাল দিতে না পেরে বাংলাদেশকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
এতে দেশের প্রায় দুই কোটি খামারি ও পশুপালননির্ভর মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, বিদেশি মাংস কম দামে বাজারে এলে দেশীয় গরু-ছাগল পালনে নির্ভরশীল মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
ফরিদা আখতার বলেন, নাগরিক ও সরকারের একজন সদস্য হিসেবে তিনি এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছেন এবং শেষ দিন পর্যন্ত লড়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত সরকারের ভেতরে থেকেও তা ঠেকাতে না পারার দায় তারও রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেকেই বলছেন মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় পুরোপুরি হতাশাজনক ছিল। কিন্তু বিষয়টি এতটা সরল নয়। ১৮ মাসের সেই সরকারের সামনে আন্দোলন, নানা দাবি-দাওয়া ও প্রশাসনিক অস্থিরতাসহ বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। গত ১৫ বছরের জমে থাকা নানা সমস্যার চাপও তখন সামাল দিতে হয়েছে। তাই পুরো সময়টিকে শুধু হতাশা হিসেবে দেখাটা ঠিক হবে না।
