সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত সাইফুল্লাহর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মূল বসতঘরে নয়, বরং একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে আগুন লাগানো হয়েছে—যা নিয়ে তারা ঘটনাটিকে ‘সাজানো’ বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটিতে একাধিক টিনের বসতঘর রয়েছে। তবে আগুন লেগেছে মূল বসতঘরগুলোতে নয়, একটি আলাদা ছোট রান্নাঘরে। ঘরটির তিন পাশে কাপড়ের বেড়া দেওয়া ছিল এবং ভেতরে কিছু রান্নার লাকড়ি রাখা ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘরটি বর্তমানে নিয়মিত ব্যবহৃত হয় না এবং অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
এ নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি দুর্বৃত্তরা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে হামলা চালাত, তাহলে বসতঘরগুলোই তাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বসতঘর অক্ষত রেখে একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে আগুন লাগানোর ঘটনা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।
এদিকে সাইফুল্লাহর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা তাদের ঘরের টিনের বেড়ায় অস্ত্র দিয়ে কোপ দিয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবির দিকে ইঙ্গিত করে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, টিনের বেড়ায় কাটার দাগের ধরন স্বাভাবিক হামলার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে না।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত ডানহাতি কেউ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিলে কাটার দাগ ডান দিক থেকে বাম দিকে তির্যকভাবে পড়ে। কিন্তু ছবিতে দেখা যাচ্ছে কাটার দাগগুলো বাম দিক থেকে ডান দিকে আড়াআড়িভাবে রয়েছে। এ কারণে অনেকে ধারণা করছেন, এগুলো হয়তো পরিকল্পিতভাবে কাটা হতে পারে।
ঘটনার সময় ও প্রেক্ষাপট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, গত ৭ মার্চের একটি ঘটনার পর থেকে সাইফুল্লাহকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তবে এতদিন তার বাড়িতে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়দের আরও দাবি, সাইফুল্লাহর বড় ভাই ঢাকায় চাকরি করেন এবং তিনি সম্প্রতি বাড়িতে এসেছেন। তার বাড়িতে ফেরার পরের রাতেই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সময়ের এই মিল নিয়েও কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল্লাহ বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
