ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও জাতীয় দিবস সংক্রান্ত তাদের নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের সময়েও বহাল থাকছে। সাম্প্রতিক এক পরিপত্রে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বুধবার (১১ মার্চ) জারি করা এক পরিপত্রে জাতীয় পর্যায়ে পালিত বিভিন্ন দিবসের তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্র আবু সাঈদের মৃত্যুর দিন ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্তও বহাল রাখা হয়েছে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস এবং ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস বাতিল করে পরিপত্র জারি করেছিল। নতুন সরকারের প্রকাশিত তালিকাতেও এসব দিবস পুনর্বহালের কোনো উল্লেখ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করলেও নতুন জাতীয় দিবসের তালিকায় মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট দিবসগুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, আগের মতো জাতীয় দিবসগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
ক-শ্রেণিতে জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি দিবস ও উৎসব যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হবে।
খ-শ্রেণিতে থাকা ৩৭টি দিবস ঐতিহ্যগতভাবে পালন করা হয় বা দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। এসব দিবস উল্লেখযোগ্য পরিসরে পালন করা যেতে পারে। এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা সম্পৃক্ত থাকবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ-শ্রেণিতে থাকা ৩৫টি দিবস সীমিত পরিসরে পালন করা হবে। এসব দিবসের অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন কি না তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উন্নয়ন খাত থেকে এসব দিবস পালনের জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নিয়মিতভাবে যেসব দিবস পালন করে থাকে, সেগুলোর কিছু বর্তমান সময়ে তেমন গুরুত্ব বহন করে না বা পুনরাবৃত্তিমূলক। সরকারের সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ের জন্য এসব দিবস পালনের সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলো সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলতে পারে।
তবে শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১–৭ আগস্ট), বিশ্ব শিশু সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর–৫ অক্টোবর), জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ, সশস্ত্র বাহিনী দিবস, পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্য পক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত কর্মসূচি অনুযায়ী এসব অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে।
