চ্যানেল ১৪ প্রতিবেদন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তার মা পারভীন আক্তার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে শাহবাগ থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন্স) এবং ভুক্তভোগীর মা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে কী কারণে বা কোন পরিস্থিতিতে এত দ্রুত অভিযোগ প্রত্যাহার করা হলো—সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার রাতে পারভীন আক্তার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র।
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার ভোররাতে রোজা রাখার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)–এর ক্যান্টিনে সেহরি খেতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শাহবাগ থানার সামনে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
পাভেলের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ শেয়ার করা নিয়ে তর্কের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহারে প্রথম আসামি করা হয়েছিল ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহকে। নাম উল্লেখ করা অন্যদের মধ্যে ছিলেন হাসিব-আল-ইসলাম, সাঈদ আফ্রিদি, রিয়াদ মাল, সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভ, মো. সাকিব, ফোরকান উদ্দিন মহি, বায়েজিদ হাসান, হিমেল ও সজীব হোসেন।
পাভেলের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হাসিবুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের ছাত্র সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহসহ কয়েকজন তাকে মারধর করে থানার সামনে ফেলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুয়েট ক্যান্টিনে সেহরি খেতে গিয়ে পাভেলকে ৭ মার্চের ভাষণ ফেসবুকে শেয়ার করা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এ নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিয়ে গিয়ে আরও কয়েক দফা মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিকভাবে অসুস্থ তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার কথাও স্মরণ করেন।
ঘটনাটি নিয়ে লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট মহিউদ্দিন মোহাম্মদ এবং সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলে তারা ঘটনার বিচার দাবি করেন।
তবে অভিযুক্তদের একজন মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি মারধরের ঘটনায় জড়িত নন। তার দাবি, পাভেল তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং তিনি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন।
