মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণের পর পর্যায়ক্রমে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দাদা ও নাতির বিরুদ্ধে। গুরুতর অবস্থায় ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার জানায়, তার মা মাদারীপুর শহরে গৃহকর্মীর কাজ করেন এবং বাবা ঢাকায় দিনমজুর হিসেবে কর্মরত। গত বুধবার (৪ মার্চ) ঝাউদী ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী গ্রামে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন চাচার আত্মীয় নওয়াব আলী সরদার। অভিযোগ রয়েছে, বাড়িতে কিশোরীকে একা পেয়ে তিনি কৌশলে তাকে অজ্ঞান করে অপহরণ করেন।
পরে তাকে প্রথমে আলীনগর গ্রামে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার নির্যাতন করা হয়। এরপর ঢাকায় নিয়ে গেলে নওয়াব আলীর সঙ্গে যুক্ত হয় তার নাতি মিলন সরদার। অভিযোগ অনুযায়ী, দাদা ও নাতি পর্যায়ক্রমে কিশোরীকে নির্যাতন করে।
কিশোরীর মা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মেয়েটি নিখোঁজ ছিল। পরে আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মীর রায়হান জানান, নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এক কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং তার চিকিৎসা চলছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাসপাতাল থেকে ঘটনাটি সম্পর্কে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা তার পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত নওয়াব আলী সরদার ও মিলন সরদারসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা।
