সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টা ও শীর্ষ দায়িত্বশীল ব্যক্তি মব সহিংসতার আশঙ্কায় সরকারি বাসভবন ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট জনরোষের মুখে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) গত ৪ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব ভায়োলেন্স, সাংবাদিক নির্যাতন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা তুলে ধরে।
অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে মব সহিংসতা, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ জানায়।
এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মাসে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত এবং ৩১৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনায় ৬০ জন নিহত এবং কারাগারে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সাবেক এক উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, গণমামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যদিও সব উপদেষ্টা সমানভাবে দায়ী নন, তবুও পরিস্থিতি তাদের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সরকারি বাসভবনে নিরাপত্তা বেশি থাকায় তারা আপাতত সেখানেই থাকতে চান।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক উপদেষ্টাদের চলতি মাসের মধ্যেই সরকারি বাসা ছাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মাস সময় দেওয়া হতে পারে। তবে মার্চ বা এপ্রিল মাসে কেউ সরকারি বাসভবনে থাকলে নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাবেক উপদেষ্টাদের জন্য আলাদা কোনো আবাসন নীতিমালা নেই। তাই বিষয়টি তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাসা ছেড়ে দেবেন।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস চলতি ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছাড়বেন বলে জানা গেছে। তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে উঠবেন।
বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড এলাকায় ২৪টি বাংলো ও ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এগুলো সংস্কার করে দ্রুত বরাদ্দ দিতে চায় আবাসন পরিদপ্তর। ইতোমধ্যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ২১ জন বাসার জন্য আবেদন করেছেন।
তবে মোট বরাদ্দযোগ্য বাসা ৩৭টি, আর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা মিলিয়ে সংখ্যাটি তার চেয়ে বেশি। আবাসন পরিদপ্তরের দাবি, সবাই সরকারি বাসা নাও চাইতে পারে তাই বড় কোনো জটিলতা হবে না।
