নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশে বা প্রবাসে আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় পদে না থেকেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে কীভাবে দেশি-বিদেশি সবার কাছে তুলে ধরা যায়, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন নিউ ইয়র্ক প্রবাসী ময়নু জামান চৌধুরী। বঙ্গবন্ধুর প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা, আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা থেকেই তিনি এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন, যা এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন অবমাননার ঘটনা ঘটে। এই পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বহু মানুষ যখন স্তম্ভিত ও বিচলিত, ঠিক তখন নিউ ইয়র্কের রাজপথে এক ব্যতিক্রমী ও সাহসী প্রতিবাদ শুরু করেন ময়নু জামান চৌধুরী। প্রকাশ্যে বিরোধিতা বা দ্বিধার তোয়াক্কা না করে তিনি নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে বঙ্গবন্ধুর পোস্টার ও স্টিকার লাগিয়ে পুরো নিউ ইয়র্ক শহরে চলাচল শুরু করেন। প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি এমন বীরত্বপূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন প্রবাসী বাঙালিদের মাঝে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সিলেটের বিয়ানীবাজারের মোরিয়া ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ময়নু জামান চৌধুরী ১৯৭৯ সালে ভাগ্যের অন্বেষণে সৌদি আরব পাড়ি দেন। সেখানে ৭ বছর একটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে সুখ্যাতির সাথে কাজ করার পর ১৯৮৭ সালে দেশে ফেরেন এবং একই বছর যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি স্থায়ীভাবে নিউ ইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
নিউ ইয়র্কে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় ম্যানহাটনের একটি ইলেকট্রনিকসের দোকানে। কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার কারণে সেখানে দীর্ঘ ২১ বছর কাজ করেন এবং স্টক ম্যানেজার থেকে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে ম্যানেজার হন। ২০০৭-২০০৮ সালে শেয়ার বাজারের মন্দায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া কিংবা পরবর্তীতে ২০২০ সালে মহামারী করোনার সময় আড়াই মাস হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ফিরে আসা—জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পার হয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন একজন সফল রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবে।
ব্যবসায়িক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি একজন নীরব সমাজসেবক। সিলেটের বিয়ানীবাজারে নিজ চাচা সাবেক সচিব খসরুজ্জামান চৌধুরীর নামে তিনি একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে বঙ্গবন্ধুসহ সকল জাতীয় নেতার বই সংরক্ষিত রয়েছে। ৫ আগস্টের পর সেখানে হামলার চেষ্টা ও হুমকির মুখে সাত মাস কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে তা পুনরায় চালু করা হয়।
কোনো চাওয়া-পাওয়ার হিসেব ছাড়া স্বেচ্ছায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জানানোর এই দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ময়নু জামান চৌধুরী প্রবাসের মাটিতে দেশপ্রেম ও আদর্শের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।
