নিজস্ব প্রতিনিধি : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রাতের শিফটে দায়িত্ব পালনকালে এক নির্মম ও সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফর-হায়ার গাড়িচালক রুহুল আমিন (৫০)। ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিন এলাকায় যাত্রী নামানোর সময়ে সামান্য সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মাঝে এক আততায়ী তাঁর গাড়ির জানালায় নক করে অতর্কিতে মুখে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার ভোর চারটার কিছু পর, ফোর্ট গ্রিনের নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউ এলাকায়। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স তাঁকে ‘এমডি আমিন’ এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ‘রুহুল আমিন নাসির’ নামে শনাক্ত করেছে। ১৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের জীবিকা নির্বাহে চালক হিসেবে কাজ করা এই বাংলাদেশি বর্তমানে কুইন্সের বাসিন্দা।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সিবিএস নিউইয়র্ক ও এনওয়াইওয়ানের তথ্যমতে, ঘটনার সময় যাত্রী নামানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন আমিন। তখন একটি মেডিকেল পরিবহন ভ্যানের সঙ্গে তাঁর গাড়ির মৃদু ধাক্কা লাগে। বিষয়টি নিয়ে দুপক্ষের কথা কাটাকাটি শুরু হলে আমিন পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে পাশের হুইটম্যান হাউসেস আবাসিক এলাকা থেকে এক ব্যক্তি বের হয়ে এসে আমিনের গাড়ির জানালায় টোকা দেয় এবং মুহূর্তেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। গুলিটি সরাসরি আমিনের মুখের ডান পাশে বিদ্ধ হয়।
তাত্ক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে নিউইয়র্ক প্রেসবিটারিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জটিল অস্ত্রোপচার শেষে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
এদিকে কাজের মধ্যে একজন মেহনতি চালকের ওপর এমন নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমোজিন কমিশন (TLC)। সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়েছে, লাইসেন্সধারী কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে এই জাতীয় সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, গত মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নিউইয়র্কে ডিউটিরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এটি দ্বিতীয়। আমিনের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সামাজিক তহবিল সংগ্রহের পাশাপাশি অপরাধীকে ধরিয়ে দিতে পুরষ্কার ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। হামলাকারীকে গ্রেপ্তারে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত জোরদার করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
