বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে আইনজীবীদের ওপর হামলা ও চেম্বার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার সকালে দেশটির রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে বরিশাল আদালতের এজলাস ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাডভোকেট সুবির নন্দী দাসের সঞ্চালনায় অ্যাডভোকেট চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট দেবুল কুমার দে, অ্যাডভোকেট তামান্না ফেরদৌস, অ্যাডভোকেট উজ্জ্বল হোসেন, অ্যাডভোকেট রাসেল, অ্যাডভোকেট বিপ্লব কুমার দাস ও অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা (ইনডিপেনডেন্স অব জুডিশিয়ারি) অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। বরিশাল আদালতে ভাঙচুরের ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান তারা।
অভিযোগ রয়েছে, বেলা গড়ালে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজলের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের চেম্বারে হামলা চালান। এ সময় গাজী তৌহিদ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইশা, আল মাহবুব, রায়হান, লুৎফর রহমান কনক, তৌহিদুর রহমান ও জয়নালসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
হামলায় সিনিয়র দুই আইনজীবীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। কয়েকটি চেম্বারে ভাঙচুর চালানো হয় বলেও জানানো হয়েছে। অ্যাডভোকেট চঞ্চল কুমার বিশ্বাসের চেম্বারে হামলার সময় অ্যাডভোকেট সুপ্রকাশ দত্ত অমিত গুরুতর আহত হন বলে সহকর্মীরা জানান।
আরেক আইনজীবীর ভাষ্য, সিনিয়র আইনজীবী আবু সাঈদ সাগর ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য চঞ্চল কুমার বিশ্বাসের চেম্বারে ঢুকে ভাঙচুর ও শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে এলে অ্যাডভোকেট সুপ্রকাশ দত্ত অমিত, অ্যাডভোকেট দিপংকর হালদার দীপু, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হেলাল ও ব্যারিস্টার কুমার ডি উজ্জ্বলকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বরিশালে আদালতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচি ও পরবর্তী এজলাস ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে।
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার ইউনুস গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। তার জামিনের পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পরদিন মহানগর সংশ্লিষ্ট আদালত বর্জনের ডাক দেওয়া হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আদালতকক্ষে হট্টগোল করতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বিচারকক্ষে রাখা চেয়ার-টেবিল উল্টে ফেলা ও বিচারকার্য ব্যাহত করা হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
সুপ্রিম কোর্টে হামলার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
