নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের সময়ে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করে আটক সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার ও সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে একাধিকবার বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলেও জানায় সম্পাদক পরিষদ।
তবে সংগঠনটির দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আশ্বস্ত দিয়েও মামলাগুলো খতিয়ে দেখে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহার করেনি।
বুধবার সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ সই করা এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
সেসময় দুঃখজনকভাবে এ বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি বলেও জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
সম্পাদক পরিষদ বিবৃতিতে জানায়, চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলাসহ অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ইউনূস ক্ষমতা দখলের পরে এসব মামলায় আটক রয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিল আহমেদ এবং প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাসহ ১০ জনেরও অধিক সাংবাদিককে আটক করে সরকার।
এসব মামলার কারণে এখনো অনেক সাংবাদিক কারাবন্দি রয়েছেন এবং অনেকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সাংবাদিকদের স্বাভাবিক পেশাগত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, তবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে হবে।
সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ন্যায়বিচারের স্বার্থেই অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন; কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্পাদক পরিষদের জোরাল আহ্বান, তারা যেন বিষয়টির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
সম্পাদক পরিষদ বিবৃতিতে আরও বলেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক অঙ্গীকার—এই প্রত্যাশাই আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।
