বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ, মব মেন্টালিটি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সরাসরি দায়ী করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন–নিউজ১৮–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের ব্যর্থতার কারণেই দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
শেখ হাসিনার অভিযোগ, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলা হয়েছে, কিন্তু এসব ঘটনার কোনো কার্যকর বিচার হয়নি। তিনি বলেন, “ধর্মীয় উগ্রবাদ আর মব মেন্টালিটি একসঙ্গে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে, আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।”
দিপু দাস হত্যাকাণ্ডকে ভয়াবহ অপরাধ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এটি সমাজে অসহিষ্ণুতা কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে তার প্রমাণ। তাঁর দাবি, হাজার হাজার সংখ্যালঘু নির্যাতনের শিকার হলেও সরকার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতেই অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে ভারতবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে তার প্রভাব পররাষ্ট্রনীতিতেও পড়ে।”
ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভকে ‘পরিকল্পিত’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, উগ্রবাদী ও সুবিধাবাদী রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মিত্রতার সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই ২০২৪-এর সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের সরকার রক্ষা করছে।
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি দাবি করেন, জনগণের ভোট ছাড়াই যদি সরকার গঠনের চেষ্টা করা হয়, তবে সে সরকারের কোনো বৈধতা থাকবে না।
