অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার তৎপরতা ছিল এমন অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, অন্তত তিনজন উপদেষ্টা পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বিলম্ব করতে চেয়েছিলেন এবং আরেকজন সুবিধাবাদী অবস্থান নিয়েছিলেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।
শুরুর দিকে দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে পরবর্তী সময়ে একাধিক সংস্কার প্রস্তাব সামনে আসে। সমালোচকদের মতে, এসব প্রস্তাবের বাস্তবায়নকে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। উপদেষ্টাদের যুক্তি ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হলে তড়িঘড়ি নির্বাচন দিলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ, নির্বাচন বিলম্বের আড়ালে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির কাছে অনুকূল পরিবেশে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল। “মব সন্ত্রাস” বা ধারাবাহিক সহিংসতার পরিবেশ প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ধীর করে দেয় এমন অভিযোগও ওঠে। যদিও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, সেনাবাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে বড় ধরনের অস্থিরতা এড়ানো গেছে।
বিদেশি কূটনৈতিক মহলেও নির্বাচন বিলম্বের পক্ষে মতামত দেওয়া হয়েছিল এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে। একই সময়ে নিয়মিত অনানুষ্ঠানিক বৈঠক, জনমত জরিপ, বিদেশ সফর ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
লন্ডনে একটি বৈঠক ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়। সমালোচকদের দাবি, সেটিকে প্রশাসনকে দুর্বল করার প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনচাপ, দলগুলোর অবস্থান এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের দিকেই অগ্রসর হতে বাধ্য হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ভোটের দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বিকল্প পরিকল্পনা থেকে সরে আসা হয় বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ ও বিশ্লেষণ মূলত বিভিন্ন মহলের আলোচনা ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এলে চিত্র ভিন্ন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
