নতুন গঠিত সরকারে যোগাযোগ খাতের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম। তাকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জসীম উদ্দিন সরকার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট।
৫৮ বছর বয়সী শেখ রবিউল আলম বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
পেশায় ব্যবসায়ী এই রাজনীতিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ‘প্লিজেন্ট প্রপার্টিজ লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এর আগে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি।
১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করা শেখ রবিউল আলমের স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাটে হলেও বর্তমানে তিনি ঢাকার হাতিরপুলে বসবাস করেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তার আয়, সম্পদ ও মামলার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।
হলফনামা অনুযায়ী, স্নাতকোত্তর পাস রবিউল আলম ব্যবসা থেকে বছরে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ডিরেক্টর রেমুনারেশন বাবদ ৬ লাখ টাকা আয় করেন। সব মিলিয়ে তার বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
তার হাতে নগদ ছিল ৪ লাখ ৭২ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং স্ত্রীর হাতে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে ৪ লাখ এবং স্ত্রীর নামে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৮০ টাকা জমা রয়েছে। শেয়ারবাজারে তার নামে ২১ লাখ এবং স্ত্রীর নামে ৯ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। স্ত্রীর নামে ৪৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ১৫ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে।
ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য তার নামে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি রয়েছে। স্ত্রীর নামে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার থাকলেও নিজের নামে কোনো সোনা নেই বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ইলেকট্রনিক সামগ্রী বাবদ তার ১ লাখ ৮০ হাজার এবং স্ত্রীর নামে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্জনকালীন হিসাবে তার নিজের নামে অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৫৭ লাখ ২২ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৮০ লাখ ৮৪ হাজার ২৬০ টাকা।
তবে আয়কর রিটার্নে নিজের সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ২ কোটি ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৩ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার ৭৯৫ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৭টি মামলা বিচারাধীন বা তদন্তাধীন রয়েছে। এর মধ্যে শাহবাগ ও হাজারীবাগ থানায় তদন্তাধীন মামলা ছাড়াও বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। অতীতে রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ২৮টি মামলায় তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে দীপ্ত টেলিভিশনের সম্প্রচার প্রকৌশলী তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে সংবাদ সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে। ওই ঘটনায় তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় হত্যার অভিযোগ ওঠে।
হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে কোনো ব্যাংক ঋণ নেই এবং ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা পরিচালক হিসেবে কোনো ঋণ গ্রহণও করেননি।
