নিজস্ব প্রতিনিধিঃ অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র প্রতিনিধি মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বুধবার পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানিয়েছে প্রথম আলো। দুজনের একজন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা হিসেবে এবং অন্যজন স্থানীয় সরকারের দায়িত্বে ছিলেন।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা সামনে রেখে দু’জনই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্র বলছে, তারা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে অবহিত করেছেন।
আসিফ মাহমুদকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ঘুষ কেলেঙ্কারি, রাষ্ট্রীয় সফরে অস্ত্র বহন ও প্রভাব বিস্তারের মতো নানা অভিযোগ উঠে আসছিল। তার ব্যক্তিগত সহকারীর শত কোটি টাকার ঘুষ–কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে বাবার টেন্ডার–বাণিজ্য—সব মিলিয়ে তিনি একাধিকবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছিলেন। যদিও আসিফ এসব অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার একাত্ত সহকারীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
কয়েক মাস ধরেই তার পদত্যাগের গুঞ্জন ঘুরছিল। ধারণা ছিল, তিনি পদ ছাড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে নির্বাচন করবেন। ৯ নভেম্বর কুমিল্লা থেকে ভোটার ঠিকানা সরিয়ে ঢাকা–১০ আসনে স্থানান্তর করাও সেই আলোচনাকে আরও জোরদার করে। এর মাঝেই বুধবার দুপুর তিনটায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপদেষ্টা “সমসাময়িক বিষয়” নিয়ে কথা বলবেন। তবে সরকারের ভেতরের সূত্রগুলো মনে করছে, পদত্যাগ–সংক্রান্ত ঘোষণাই আসতে পারে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ প্রসঙ্গ ওঠে। পরে সন্ধ্যায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিশ্চিত হন যে তারা বুধবারই পদ ছাড়বেন।
এর আগেও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সরকারশীর্ষ থেকে মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তখন মাহফুজ আগ্রহ দেখান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত থাকতে, আর আসিফ অতিরিক্ত সময় চান। গত মাসেও তাদের ওপর নতুন করে চাপ আসে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের মধ্যে তিনজন উপদেষ্টা হন। নাহিদ ইসলাম পান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। আসিফ মাহমুদকে প্রথমে শ্রম উপদেষ্টা করে পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নেওয়া হয়। মাহফুজ আলম ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী।
জুলাই এ তথাকথিত আন্দোলন ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যাত্রা শুরু হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে দলের আহ্বায়ক হন, আর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম। যদিও মাহফুজ ও আসিফ কোনো পদে না থাকলেও দলটিতে তাদের প্রভাব আছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
ঢাকা–১০ আসনে ইতোমধ্যেই এনসিপি ও বিএনপি দু’দলই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে আসিফ স্বতন্ত্র নাকি অন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এটি এখনও পরিষ্কার নয়।
অন্যদিকে মাহফুজ আলমের এলাকা লক্ষ্মীপুর–১ আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিএনপি সেখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রার্থী ঘোষণা করলেও সোমবার এলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন। এতে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা কমে গেছে মাহফুজের।
নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো নতুন জোট গঠনে ব্যস্ত। এনসিপি, এবি পার্টি এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে ইতোমধ্যে নতুন একটি জোট আত্মপ্রকাশ করেছে।
