নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ :
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বাণিজ্যিক খামারের মুরগির বিষ্ঠা বিক্রি ও নিয়ন্ত্রণের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সহিংসতা ও চাঁদাবাজির জেরে দায়ের করা দ্রুত বিচার আইনের মামলায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সেক্রেটারিসহ ৩ শীর্ষ নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৯ আগস্ট, ২০২৬) ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতে মামলার নির্ধারিত তারিখে হাজির হয়ে আসামিরা জামিনের আবেদন জানালে বিচারক শুনানি শেষে তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া জামায়াতের তিন নেতা হলেন— ফুলবাড়িয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ফজলুল হক শামীম, উপজেলা সেক্রেটারি ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য, শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ও আলহেরা একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ।
আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান খবরটি নিশ্চিত করে জানান, দ্রুত বিচার আইনের বিশেষ মামলায় আসামিরা হাজিরা দিতে এলে আদালত শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র হতে জানা যায়, উপজেলার কাহালগাঁও বাজারের পাশে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি লেয়ার মুরগির খামারের মূল্যবান বিষ্ঠার (যা মাছের খাবার উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়) ব্যবসা ও দখল নিয়ে রাজনৈতিক অরাজকতা তৈরি হয়। এর জের ধরে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল রাতে জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় একাধিক ককটেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, ব্যাংকের গ্রিল ও তালা ভেঙে বিপুল পরিমাণ টাকা লুটপাট করা হয় এবং বেশ কয়েকটি প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেপরোয়া ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো হয়।
পরদিন ৮ এপ্রিল উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার বাদী হয়ে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ৪৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০০ জনকে অভিযুক্ত করে দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ময়মনসিংহ-৬ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুল হাসান মিলনের ভাইসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়। আদালতের ধার্য তারিখে হাজিরা না দেওয়ায় এমপি’র ভাইসহ কয়েকজন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
এদিকে তুচ্ছ মুরগির বিষ্ঠার টাকার ভাগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের এমন অনভিপ্রেত সংঘাত ও পরবর্তীকালে উপজেলার শীর্ষ জামায়াত নেতাদের জেলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
