ফোরটিন ডেস্ক : প্রচণ্ড ঠান্ডা আর চারদিকে বরফের পুরু আস্তরণ। তুষারঝড়ের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া পথ সাফ না করলে সময়মতো ডায়ালাইসিস করাতে হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব ছিল না বয়োবৃদ্ধ নাটালি ব্লেয়ারের। ঠিক সেই সংকট মুহূর্তে নিজের আরামের ঘুম ও কনকনে ঠান্ডা বিসর্জন দিয়ে উদ্ধারকর্তা হয়ে এগিয়ে এল পাঁচ হাইস্কুল শিক্ষার্থী। ভোর সাভে ৪টায় শাবল ও কোদাল হাতে তুলে নিয়ে মাত্র ৩০ মিনিটে বরফ পরিষ্কার করে ওই বৃদ্ধার জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা নিশ্চিত করেছে তারা।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির পার্সিপ্যানি এলাকার। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সেদিন অন্তত ৮ ইঞ্চি তুষারে ঢেকে গিয়েছিল প্রতিবেশীদের আনাগোনার পথ। নাটালির নিয়মিত ডায়ালাইসিস অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল সকাল ৬টায়, যার জন্য অ্যাম্বুলেন্স আসার কথা। তবে তাঁর দীর্ঘ ড্রাইভওয়ে তুষারে ঢেকে থাকায় ভেতরে গাড়ি ঢোকার কোনো উপায় ছিল না।
সাধারণত নাটালির প্রতিবেশী ব্রায়ান ল্যানিগান (জরুরি চিকিৎসা সেবার কর্মী) বরফ সরানোর কাজটা করতেন। কিন্তু জরুরি ডিউটি থাকায় ওই ভোরে তিনি থাকতে পারেননি। বিষয়টি তিনি নিজের ছোট ভাই পার্সিপ্যানি হাইস্কুলের ছাত্র প্যাট্রিক ল্যানিগানকে জানান। নাটালির সংকটের কথা শুনে প্যাট্রিক এক মুহূর্তও ভাবেনি। সে তক্ষুণি তার চার বন্ধু—জাস্টিন স্ট্যানটন, ক্রিস লাইবফ্রেড, টাইলার গ্রিকো ও আমন শারাফিকে ডেকে নেয়।
পাঁচ বন্ধু মিলে রাতে এক জায়গায় থাকে, যাতে কেউ ভোরে ঘুমিয়ে না পড়ে। ভোর সাড়ে ৪টায় হাঁড়কাঁপানো ঠান্ডার ভেতর শাবল আর কোদাল নিয়ে হাজির হয় নাটালির বাড়ির সামনে। নিজেদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আধঘণ্টার মধ্যেই বরফমুক্ত করে ফেলে পুরো ড্রাইভওয়ে।
সকাল ৬টায় নাটালি যখন ঘর থেকে বের হন, তখন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স আসার পথ পুরো পরিষ্কার। কোনো বাধা ছাড়াই তিনি নির্ধারিত সময়ে ডায়ালাইসিস সেন্টারে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে এই ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা পাঁচ কিশোরকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় ‘স্নো অ্যাঞ্জেল’ বা ‘তুষারের ফেরেশতা’ উপাধিতে ভূষিত করেন। পার্সিপ্যানি হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ এবং নিউ জার্সির আইনপ্রণেতারা এই পাঁচ শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ও প্রশংসাপত্র প্রদান করেন। নিঃস্বার্থভাবে কেবল মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনা মানবিকতার এক বিরল নজির হয়ে রয়েছে।
