নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বঙ্গোপসাগরের বুকে জীবনবাজি রেখে মাছ ধরা সাধারণ জেলেদের ওপর নতুন করে নেমে এসেছে চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের খড়্গ। সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে চর ইজারা নেওয়ার পরও ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর এবং চরে উঠতে না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাঙ্গাবালী দক্ষিণ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজালাল মীরের বিরুদ্ধে।
বন বিভাগের চরমোন্তাজ রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে সরকারি বিধি মেনে চর হেয়ার ও চর আগারা এলাকাটি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরের জন্য ইজারা নেন ব্যবসায়ী আ. আজিজ মাহমুদ ও আ. মান্নান ঢালী। কিন্তু ইজারাকৃত সেই চরে মাছ ধরতে গেলেই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন স্থানীয় বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা।
ভুক্তভোগী জেলে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল মীরের ইশারায় চরে একচ্ছত্র রাজত্ব চালাচ্ছে একটি সুসংগঠিত ‘গুপ্ত বাহিনী’। জেলে রাজীব খান অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও সাবেক এমপির নাম ভাঙিয়ে শাহজালাল মীর একচ্ছত্র চর দখল করে রাখতেন। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও সাগরে তাঁর সন্ত্রাসী রাজত্ব কমেনি। ৬ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে চরে জাল ফেলাই অসম্ভব হয়ে উঠেছে।”
মৎস্য ব্যবসায়ী আ. মান্নান ঢালী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত বছরও একই চর বৈধভাবে ইজারা নেওয়ার পরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁদের তাড়িয়ে দিয়েছিলেন শাহজালাল মীর। এলাকায় ‘সাগরের সন্ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তির জুলুমে সাধারণ জেলেরা দিশেহারা। গত ২২ জুলাই রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখনো বন্ধ হয়নি এই অত্যাচার।
এদিকে চাঁদাবাজি ও মারধরের কথা অস্বীকার করলেও অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শাহজালাল মীর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে স্বীকার করেন, ইজারা অন্য ব্যবসায়ীরা পেলেও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. রহমান ফরাজীর ‘আশ্বাসে’ তিনি চরে মাছ ধরছেন।
তবে নিজের অনুসারীর চর দখল ও অবৈধ হস্তক্ষেপ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. রহমান ফরাজী জবাব এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “চর নিয়ে কোনো মন্তব্য করলে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।”
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দীন জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্তকে একাধিকবার থানায় ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি। অন্যদিকে চরমোন্তাজ রেঞ্জের কর্মকর্তা আবুল কালাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি রাজস্ব দিয়ে যারা অনুমতিপত্র পেয়েছেন কেবল তাঁরাই চরে মাছ ধরার একক অধিকারী।
