পাকিস্তান সেনাবাহিনী মনে করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশের নিরাপত্তার জন্য এখন সরাসরি ঝুঁকি হয়ে উঠেছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছে, ইমরান খান নিজেকে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুসারী মনে করেন।
রাওয়ালপিণ্ডিতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তান আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। তার বক্তব্যের ধরন থেকেই পরিষ্কার ছিল, বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুতর মনে করছে।
জেনারেল চৌধুরীর মতে, ইমরান খানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচারণা এবং বিদেশি যোগাযোগ তাকে পাকিস্তানের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিতে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, ইমরান খান যখন বঙ্গবন্ধুর উদাহরণ টানেন, তখন সেটি সেনাবাহিনীর কাছে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
তার ভাষায়, “তার সোশাল মিডিয়া টুইট দেখলে বুঝবেন, তিনি শেখ মুজিব রহমানের কত বড় ভক্ত! কথায় কথায় তার উক্তি টেনে আনেন, তার উদাহরণ দেন। অথচ মুজিব আমাদের দেশের জন্য এক নম্বর গাদ্দার।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, ইমরান খান নিজের তত্ত্বাবধানে একটি সংগঠিত ট্রোল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন, যার কাজ ছিল নিয়মিতভাবে সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করা। জেনারেল চৌধুরীর বক্তব্য, একটি টুইট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি অ্যাকাউন্টগুলোতে যে সাড়া দেখা যায়, সেটি সমন্বিত প্রচারণার ইঙ্গিত।
তিনি বলেন, আদিয়ালা কারাগারে বৈঠকের পর ইমরান খান বারবার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বার্তা পাঠিয়েছেন, এবং সেগুলো বিদেশি সংবাদমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।
ইমরান খানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত নিয়ে আইএসপিআর মহাপরিচালক কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। তার মন্তব্য, পাকিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে কোনো ছাড় দিতে পারে না এবং খারেজি জঙ্গিদের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়। “রাষ্ট্রের ওপরে কেউ নয়।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণ হলে জবাব দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে জেনারেল চৌধুরী গণমাধ্যমকে ভুল তথ্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, দেশটি এখন পানি ব্যবস্থাপনা, খাদ্যনিরাপত্তা ও জনসংখ্যা সংকটের মতো বাস্তব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করাই জরুরি।
