ফোরটিন ডেস্ক : মব জাস্টিসের নামে প্রকাশ্য রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা, কারাগারের ভেতরে অস্বাভাবিক মৃত্যু আর নারী ও শিশুদের ওপর পাশবিক বর্বরতায় দেশজুড়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা নেমে এসেছে। কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই দেশে তথাকথিত মব সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন এবং কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২১ জনের। একই সময়ে ২৩৬ জন নারী ও শিশু মারাত্মক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ধর্ষণের ঘটনাই ঘটেছে ৭৯টি।
মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ)। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির চেয়ারম্যান আইনজীবী এলিনা খান ও মহাসচিব আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান জানান, বিচারহীনতার সংস্কৃতি রাষ্ট্রকে ভয়াবহ নৈরাজ্যের অতলে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
বিএইচআরএফের পর্যবেক্ষণে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু লোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালীতে ৪৩ বছর বয়সী এক নিরীহ রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা এবং শরীয়তপুরে বস্তাবন্দী অবস্থায় তিন বছরের এক অবুঝ শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের মতো ঘটনা প্রমাণ করে সমাজের মানবিক মূল্যবোধ কতটা তলানিতে ঠেকেছে। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে নারী নির্যাতনের সংখ্যা ২৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং রাজবাড়ী ও রাজশাহীতে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের চেষ্টাও গভীর শঙ্কা জাগিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলার এই ধসের আঁচ পড়েছে শিক্ষাঙ্গনেও। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, দেশজুড়ে মব হয়রানির মুখে পড়ে অন্তত ১ হাজার ২০০ শিক্ষক এখনো নিজের কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। এমনকি রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (আরএমইউ) উপাচার্যকে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার নজিরবিহীন নৈরাজ্যও ঘটেছে।
বিএইচআরএফ চেয়ারম্যান এলিনা খান স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মব জাস্টিসের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজকে পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অবিলম্বে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কঠোর হতে হবে। অপরদিকে মহাসচিব জিয়া হাবীব আহসান বলেন, হেফাজতে মৃত্যু ও নারী-শিশুর ওপর বর্বরতা কোনো সভ্য দেশেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নাগরিকদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এসব বর্বরতার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
