ফোরটিন ডেস্ক : বিশ্বখ্যাত চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলে এবার ইলন মাস্কের বৈপ্লবিক বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী সারোয়ার মোর্শেদ। প্রতিষ্ঠানটির বহুল প্রতীক্ষিত স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন ‘রোবোট্যাক্সি’ এবং ‘সেমি ট্রাক’-এর মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খল সমন্বয়ে তিনি সিনিয়র টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বুয়েটের অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার্স (এআইপিই) সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে সারোয়ার মোর্শেদের এই সাফল্যের তথ্য সামনে এনেছে।
বুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগ থেকে ২০১৪ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন সারোয়ার, যিনি ক্যাম্পাসে ‘রিপন’ নামেও পরিচিত ছিলেন। এরপর উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে।
২০১৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা থেকে ফলিত গণিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে বোস্টনের নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন। ২০২২ সালে অপারেশনস রিসার্চ ও গাণিতিক অপ্টিমাইজেশন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। জটিল গাণিতিক অ্যালগরিদম ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ওপর তাঁর ১৭টি আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র রয়েছে।
পিএইচডি সম্পন্ন করে সারোয়ার যোগ দেন চিপ সাম্রাজ্যের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ইন্টেল করপোরেশনে। সেখানে অ্যারিজোনার চ্যান্ডলারে অপারেশনস রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সেমিকন্ডাক্টরের জটিল উৎপাদন প্রক্রিয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেন তিনি। ইন্টেলে দায়িত্ব পালনকালে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের আন্তর্জাতিক সাপ্লায়ার ক্যাপিটাল প্ল্যানিংয়ের মতো বিশাল প্রকল্পে উন্নত গাণিতিক মডেলিংয়ের মাধ্যমে ব্যয় সাশ্রয় ও কার্যকারিতা বাড়ানোর কাজ সামলান সারোয়ার।
ইন্টেলের চিপ নির্মাণের অভিজ্ঞতা শেষে সারোয়ার মোর্শেদের ক্যারিয়ারে আসে নতুন মোড়। তিনি সরাসরি যুক্ত হন টেসলার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি বাস্তবায়নের কেন্দ্রে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রকৌশল নকশাকে বাস্তব রূপ দিয়ে রোবোট্যাক্সি ও সেমি ট্রাকের বড় আকারের উৎপাদন নিশ্চিত করা, বাইরের আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং কারখানার জটিল উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব।
সিলিকন ভ্যালিতে পা রাখার আগে সারোয়ারের কাজের হাতেখড়ি হয়েছিল দেশেই। বুয়েট থেকে পাস করার পর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বিজিএমইএ ও বুয়েটের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা মূল্যায়ন প্রকল্পে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। দেশের পোশাক কারখানা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর ও টেসলার ভবিষ্যৎ গাড়ি পর্যন্ত তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের মেধার শক্ত অবস্থানকেই তুলে ধরেছে।
