চারবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন রুখতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের দোসররা যে অন্যায্য চক্রান্ত চালিয়েছিল, তা নস্যাৎ করতে এবার মাঠে নামছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মার্কিন আইনজীবীরা। শেখ হাসিনার পাসপোর্ট ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বাতিল করা হলেও, নিজ জন্মভূমিতে ফেরার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে আমেরিকার পাঁচজন প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞ আইনজীবীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিখ্যাত মার্কিন আইনি দল বাংলাদেশ সরকারের কাছে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রাভেল পাস’-এর আবেদন দাখিল করবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একাধিক উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারক নেতা ‘বেঙ্গলি জার্নাল’-কে এই নজিরবিহীন আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
১. আমেরিকার ৫ প্রখ্যাত আইনজীবী নিয়োগ: কৌশলগত গোপনীয়তা
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিশ্চিত করেছেন যে, আন্তর্জাতিক আইনি লড়াই জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্কভিত্তিক বিশ্বখ্যাত পাঁচজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কৌশলগত কারণে নাম গোপন: ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার যেন কোনো ধরনের কূটকৌশল বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য কৌশলগত কারণে ওই পাঁচ বিখ্যাত আইনজীবীর নাম এখনই প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ: আইনি টিমের মতে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ এবং যেকোনো দেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন নাগরিকের নিজ দেশে ফেরার অধিকার কোনো সরকার বা গোষ্ঠী কেড়ে নিতে পারে না। পাসপোর্ট বাতিল করা হলেও আন্তর্জাতিকভাবে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে দেশে ফেরা একটি মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার।
২. ট্রাভেল পাস নাকচ হলে আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ ও রাজপথের কর্মসূচি
মার্কিন আইনজীবীদের মাধ্যমে ট্রাভেল পাসের আবেদনের পর যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা গ্রহণ বা অনুমোদন না করা হয়, তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন কূটনৈতিক চাপ ও দেশব্যাপী রাজপথের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উন্মোচন: ট্রাভেল পাস প্রত্যাখ্যান করা হলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ে বিএনপি সরকারের এই স্বৈরাচারী ও অধিকার হরণকারী মানসিকতা তুলে ধরা হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ: আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা ইতোমধ্যেই দেশের জেলা, উপজেলা ও তৃণমূল স্তরের প্রতিটি নেতাকর্মীকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার সুনির্দিষ্ট বার্তা দিয়েছেন। ট্রাভেল পাস সংক্রান্ত আবেদনের অগ্রগতি অনুযায়ী খুব শিগগিরই কেন্দ্র থেকে সরাসরি কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
৩. ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর সামর্থ্য সরকারের নেই
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের এই সরাসরি অন্তর্ভুক্তি বর্তমান বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এক বিশাল বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ধাক্কা।
আওয়ামী লীগ নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “নেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি ডিসেম্বরেই স্বদেশে ফিরবেন। কোনো অবৈধ সরকার বা বাতিলকৃত পাসপোর্টের বাহানা দিয়ে তাঁর বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তন ঠেকানো যাবে না। আইনি ও রাজপথ—দুই পথেই জয়ী হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা বীরদর্পে দেশে ফিরবেন।”
Comments
Previous Articleযশোরে আ.লীগ নেতা দিলু পাটোয়ারীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার
