লেখকঃআশরাফুল আলম খোকন
কোনো ব্যক্তি যত বড় নোবেলজয়ীই হোন না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে নন। ইউনুসের বিরুদ্ধে যেসব গুরুতর অভিযোগ রয়েছে সেগুলোর তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হওয়া উচিত।
ইউনুসের সময় রাজনৈতিক সহিংসতায় পুলিশ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ দুই হাজারের বেশি নিহত হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার না করে বরং হত্যাকাণ্ডের পর সে আইন করে হত্যকারীদের দায়মুক্তি দিয়েছে। সুতরাং সে “খুনি এবং খুনীদের রক্ষক”।
ইউনূস সরকারের অব্হেলায় হাম মহামারিতে ১৬০০ শিশুর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং ইউনুস “শিশু হত্যাকারী”।
ইউনুসের সময় ২০২৪ সালে ২৬১ জন এবং ২০২৫ সালে ২৭০ জন বন্দিকে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ২৯জনকে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সুতরাং ইউনুস “মানবতা বিরোধী অপরাধে অপরাধি”।
ইউনুসের সময় ২০২৪ সালে নদ-নদী থেকে ৪৪০টি এবং ২০২৫ সালে ৫৪১টি মরদেহ পাওয়া গেছে—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড। সুতরাং ইউনুস “গুমকারি”।
ইউনুসের সময় মব সহিংসতায় ২৯৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে- যা পৃথিবীর ইতিহাসে নেই। সারাদেশে লক্ষাধিক ঘরবাড়ি ভাংচুর-লুটপাট করা হয়েছে। সুতরাং ইউনুস “মব সন্ত্রাসের জনক”।
ইউনুসের সময় দেশের মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মারক ভাস্কর্য ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং সে “স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী”। সে সকল জঙ্গিদের জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছে- সুতরাং সে “জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক”।
ইউনুস ক্ষমতা পেয়েই নিজের ৬৬৬ কোটি টাকা, এবং তার গ্রামীন ফোনের কাছে সরকারের পাওনা ৮ হাজার ৪৯৫ কোটি মওকুফ করে নিয়েছিলো। সুতরাং “অর্থ জালিয়াতকারি”।
ইউনুস স্বয়ং গোপালগঞ্জ এবং তুরাগ গণহত্যায় জড়িত। তার উপদেষ্টাদের নির্দেশনা দেয়ার প্রমানও আছে। সুতরাং ইউনুস “গণহত্যাকারী”।
সুতরাং, প্রশ্নটি ইউনূসকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ বা অপছন্দ করার নয়। প্রশ্নটি—রাষ্ট্র পরিচালনার সময় সংঘটিত সহিংসতা, প্রাণহানি, অবহেলা, মব সন্ত্রাস, গণহত্যা, সম্পত্তিতে হামলা এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগগুলোর জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হবে? শুধু তিরস্কার এর সমাধান না।
