আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের শানসি প্রদেশের দাতং শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইউনগাং গ্রোটোস পর্যটনকেন্দ্রের নারীদের টয়লেটে ডিজিটাল টাইমার বসানো নিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুরক্ষার বিষয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি কিউবিকলের দরজার ওপর থাকা বিশেষ ডিসপ্লেতে ভেতরে থাকা ব্যক্তির অবস্থানকাল মিনিট ও সেকেন্ডে প্রদর্শিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের ইউনেস্কো বৈশ্বিক সংস্কৃতি সনদের নীতিমালা এবং চীনের নাগরিক ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন (PIPL) অনুযায়ী প্রকাশ্য স্থানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার সার্বজনীন নিয়ম প্রচলিত রয়েছে।
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য পর্ষদ, চীনা পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং শানসি স্থানীয় নগর প্রশাসন এই পর্যটনকেন্দ্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত।
প্রযুক্তিগত এই ব্যবস্থায় কিউবিকল খালি থাকলে সবুজ রঙের সংকেত দেখায় এবং কেউ ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করলে সরাসরি সময় গণনা শুরু হয়ে লাল রঙের সংকেতে রূপ নেয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শনার্থীদের ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গোপনীয়তার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি খালি কক্ষ চিনতে এবং জরুরি শারীরিক সমস্যায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে সহায়তা করবে।
একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মীরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে স্পষ্ট করেছেন যে, টয়লেট ব্যবহারে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা কাউকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
টয়লেট ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হলেও এমন স্পর্শকাতর স্থানে সময় প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা এবং মানসিক চাপের বিষয়ে দর্শনার্থী ও নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের পরিষেবা আধুনিকায়নের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
