ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক সদ্যোজাত সন্তানকে ডাস্টবিনের পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে দীর্ঘ ১৬ মাসের নিবিড় তদন্ত শেষে অভিযুক্ত অ্যাস্ট্রিড নোহেমি লোপেজ রামোস নামের মা-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২৬ বছর বয়সী ওই নারীকে শিশু বিপন্ন করার গুরুতর অপরাধে ল্যারি ডি. স্মিথ কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে বন্দি রাখা হয়েছে এবং তার জামিনের জন্য ৩৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছে আদালত।
গত বছরের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অ্যাপার্টমেন্টের পাশে প্রবল বৃষ্টির মাঝে পরিত্যক্ত অবস্থায় কাঁদতে থাকা নবজাতককে উদ্ধার করে পুলিশ ও চিকিৎসক দল।
আমেরিকার সিভিল রাইটস ও চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যাক্টের অধীনে নিজ সন্তানকে অরক্ষিত স্থানে ত্যাগ করা কিংবা জীবন বিপন্ন করা মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। শিশু সুরক্ষা আইনের আওতায় অনাকাঙ্ক্ষিত অনাথ শিশুদের সরকারি নিরাপদ আবাসন ও আইনি অভিভাবকত্ব প্রদানের বাধ্যবাধকতা বহাল রয়েছে।
রিভারসাইড পুলিশ ডিপার্টমেন্টের যৌন নিপীড়ন ও শিশু নির্যাতন দমন শাখা যৌথভাবে এই জটিল উদ্ধার ও ফরেনসিক তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করেছে। অপরাধীকে চিহ্নিত করে আদালতের মুখোমুখি করতে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের কঠোর আইনি প্রতিক্রিয়া সক্রিয় রাখা হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, আগামী ১২ জানুয়ারি রিভারসাইড হল অব জাস্টিসে আসামিকে হাজির করার দিন ধার্য করা হয়েছে।
রিভারসাইড পুলিশ ডিপার্টমেন্টের গোয়েন্দারা জানান, “উদ্ধারের সময় শিশুটির গায়ে নাড়ি যুক্ত ছিল এবং তীব্র বৃষ্টির মাঝে কোনো জামাকাপড় ছাড়াই তাকে ফেলে রাখা হয়।”
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ক্যালিফোর্নিয়ার ‘সেফলি সারেন্ডারড বেবি ল’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে শিশু সমর্পণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
একজন জন্মদাত্রী মা হয়ে এমন নির্মমভাবে নাড়িকাটা শিশুকে বৃষ্টির মধ্যে ডাস্টবিনে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও প্রবাসীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আদালতের আগামী শুনানিতে দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে কঠোর কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইন বিশেষজ্ঞরা।
