ফোরটিন ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নীতিহীন জোট গঠন, সংগঠনের মূল আদর্শিক পথচ্যুতি এবং পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর কাছে আত্মসমর্পণের অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির শীর্ষ নেত্রী সামান্ত শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ ও বিস্ফোরক বিবৃতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দল ছাড়ার ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে সামান্ত শারমিন স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো বিচারেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে ভবিষ্যতে চড়া রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে।
এর আগে গত ২৩ অক্টোবর ঘোষিত এনসিপির নতুন কমিটিতে তাকে কেবল যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হলে সংগঠনে তার পদাবনতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে পদত্যাগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, গত ১১ মাস ধরে তিনি দলের ভেতরে জামায়াত তোষণ ও আদর্শহীন রাজনৈতিক লাইনের বিরুদ্ধে একাই মতাদর্শিক সংগ্রাম চালিয়ে আসছিলেন। দলের ফোরামে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও নেতৃত্ব পুরোনো ধারার নির্বাচনী জোট ও আপসের পথ বেছে নেওয়ায় দলটির পক্ষে প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধে ফিরে আসা আর সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করে সামান্ত শারমিন লেখেন, দেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য যে সাংবিধানিক, আইনি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সংস্কার প্রয়োজন, জামায়াত তার একটিকেও বিশ্বাস করে না। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের দার্শনিক ভিত্তি কখনোই গণতান্ত্রিক নয়; বরং তারা ২০২৪ সালের গণআকাঙ্ক্ষাকে কুক্ষিগত করে একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র কায়েমের পাঁয়তারা করছে। ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে রাজনৈতিক প্রয়োজনে বৈধতা দেওয়া এবং এর জন্য জাতির কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা না চাওয়ার দর্শনের ওপরই জামায়াত দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে এমন একটি গণবিরোধী শক্তিকে যখন এনসিপি সংস্কারের ‘বন্ধু’ বানিয়েছে, তখন দেশের সাধারণ উদার ও মুক্তমনা মানুষ সংস্কারের রাজনীতি থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে পুরোনো ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার বড় সুযোগ ছিল এনসিপির সামনে। কিন্তু দল ইতিহাসের শিক্ষা ভুলে ১১ দলীয় ঐক্যের মতো সুবিধাবাদী নির্বাচনী জোটে অংশ নিয়ে ‘বড় দলের’ লেজুড়বৃত্তিতে লিপ্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের পর গড়ে ওঠা নতুন ধারার রাজনীতির অমিত সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নিঃশেষ করে দেওয়া হয়েছে।
দলের সুবিধাবাদী ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, শহীদ ওসমান হাদীর নির্বাচনী আত্মত্যাগ ও মৃত্যুকে অগণতান্ত্রিকভাবে ‘বড় দলের সঙ্গে জোট’ বাঁধার সাফাই হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অনৈতিক। পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল দিয়ে কখনোই নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয় বলে দ্ব্যর্থহীন অবস্থান ব্যক্ত করেন সাবেক এই এনসিপি নেত্রী।
