নিজস্ব প্রতিবেদক
ফজরের নামাজের পর থেকে টানা পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) স্বল্পমূল্যের পণ্য না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জামালপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ পণ্য বিতরণ বন্ধ ঘোষণা করা হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদরের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন শরিফপুরে মূলত দুজন ডিলারের মাধ্যমে টিসিবির কার্ডধারী গ্রাহকদের মাঝে ডাল, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করা হয়। তবে দুই ডিলারের মধ্যে একজন ডিলার নির্ধারিত সময়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হন।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ডিলার পণ্য বিতরণ শুরু করতে গেলে বিপত্তি বাধে। বৃহস্পতিবার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে, শুক্রবার সকালে ৫০০ প্যাকেজ বিতরণ করা হবে। কিন্তু এই খবরের ভিত্তিতে ভোর থেকেই পুরো ইউনিয়নের সর্বস্তরের গ্রাহকেরা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে সমবেত হতে থাকেন।
ডিলারদের অব্যবস্থাপনা এবং অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে নিরাপত্তার স্বার্থে বেলা ১০টার দিকে হঠাৎ ঘোষণা করা হয় যে—অন্য ডিলার মালামাল তুলে আনার পর আগামী মঙ্গলবার সব গ্রাহককে একসঙ্গে পণ্য সরবরাহ করা হবে।
ঘটনার বিষয়ে শরিফপুর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) উকিল মিয়া জানান, বারবার বারণ করার পরও দুই ডিলারের গ্রাহকেরা একসঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন। এক ডিলার মালামাল পাননি, ফলে আজ নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক গ্রাহককে দিতে গেলে চরম বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল। সেজন্য সাময়িকভাবে বিতরণ স্থগিত রেখে আগামী মঙ্গলবারে সবাইকে একসাথে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টির দায়দায়িত্ব প্রসঙ্গে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী নাজমুল হক জানান, টিসিবির পণ্য সংগ্রহ এবং সার্বিক বিতরণ প্রক্রিয়াটি সরাসরি উপজেলা প্রশাসন মনিটরিং করে থাকে।
তবে শরিফপুরের এই প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
