নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে কানাডায় খেলা দেখতে যাওয়া দর্শকদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশটিতে পৌঁছানোর পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) প্রার্থনা করেছেন। কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি)-এর সাম্প্রতিক নথির বরাত দিয়ে দেশটির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল’ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন ও আইআরসিসির তথ্য অনুযায়ী, টরন্টো ও ভ্যানকুভারে যৌথভাবে আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে বিদেশি দর্শকদের জন্য মোট ২৬ হাজার ১১১টি সাময়িক বসবাসের অনুমতি বা ভিজিটর ভিসা (Visitor Visa) অনুমোদন দেয় কানাডা সরকার। তবে গত ২০ জুলাই পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্বকাপ ভিসাধারীদের মধ্যে ইতোমধ্যে মোট ১৭৫ জন বিদেশি নাগরিক কানাডায় পৌঁছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জমা দিয়েছেন।
এই তালিকায় বাংলাদেশের বিষয়টি বিশেষ নজর কেড়েছে আবেদনকারী ও ভিসা অনুমোদনের আশঙ্কাজনক অনুপাতের কারণে। কানাডার অভিবাসন দপ্তরের তথ্যমতে, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি নাগরিকদের অনুকূলে মোট মাত্র ৪৫টি ভিজিটর ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু কানাডায় গিয়ে সেই ৪৫ জনের মধ্যে ১০ জনই নিজ দেশে না ফিরে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে বসেছেন, যা মোট ভিসাপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের প্রায় ২২ শতাংশ।
এর আগে আইআরসিসি এবং কানাডার সীমান্ত অভিবাসন কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছিল, বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রাপ্ত ভিসা নিয়ে কানাডায় প্রবেশ করে যদি কেউ নিজ দেশে না ফিরে সীমান্ত বা আন্তর্জাতিক আইনের সুবিধা নিয়ে আশ্রয়ের চেষ্টা চালান, তবে সীমান্তেই কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
কঠোর হুঁশিয়ারির পরও ১৭৫টি আনুষ্ঠানিক অ্যাসাইলাম আবেদন জমা পড়েছে। ভিসা এবং আশ্রয়ের আবেদন করার বৈধ সময়সীমা এখনও শেষ না হওয়ায় এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ।
(তথ্যসূত্র: দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল ও প্রথম আলো)
