নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের খাবারের প্রশংসা করতে গিয়ে গরুর মাংসকে নিজের পছন্দের খাবার হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন টালিউডের অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। বাংলাদেশে শুটিং করতে এসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি গরুর মাংস ও ইলিশ মাছ পছন্দের কথা জানান। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একদিকে সমালোচনা, অন্যদিকে তার খাদ্যপছন্দের অধিকারের পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে।
বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী জানান, বাংলাদেশে এসে তিনি দুপুরে মাছ-মাংস-ভাত খেয়েছেন এবং রাতে গরুর মাংস খাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় বিতর্ক। কেউ কেউ তার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার অনেকে বলেছেন, একজন মানুষ কী খাবেন, সেটি একান্তই তার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।
বিতর্কের মূল জায়গাটি অবশ্য শুধু খাদ্যপছন্দে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সমাজে গরুর মাংস নিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা রয়েছে। ফলে একজন পরিচিত পাবলিক পার্সোনালিটি নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে তার বক্তব্যের সামাজিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় আসে।
একটি পক্ষের বক্তব্য, খাদ্য বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা মানুষের মৌলিক ব্যক্তিগত অধিকারের অংশ। কে গরুর মাংস খাবেন, কে খাবেন না কিংবা কে কোন খাবার পছন্দ করবেন, সেটি নিয়ে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা বা চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়।
অন্যদিকে, সমালোচকদের যুক্তি হলো, ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকার থাকলেও পাবলিক পার্সোনালিটির প্রকাশ্য বক্তব্যে সামাজিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো খাবার বা অভ্যাস যখন ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তখন সে বিষয়ে মন্তব্য করার সময় সম্ভাব্য সামাজিক প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। কেউ বিশ্বজিতের বক্তব্যকে ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতি অসংবেদনশীলতা হিসেবে দেখেছেন। আবার অন্যরা মনে করছেন, শুধু কোনো খাবার পছন্দ করার কারণে একজন মানুষকে আক্রমণ করা বা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।
২০২৪ সালে সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের বাংলাদেশি রান্নার একটি ভিডিও ঘিরেও একই ধরনের সমালোচনা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিশ্বজিতের মন্তব্য নতুন করে সামনে এনেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন: ব্যক্তিগত খাদ্যস্বাধীনতা যেমন সম্মান পাওয়ার দাবি রাখে, তেমনি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ে প্রকাশ্য বক্তব্যের ক্ষেত্রেও কি একজন পরিচিত ব্যক্তির বাড়তি দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন? সামাজিক মাধ্যমের বিতর্কে আপাতত দুই মতই জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
Comments
